ইস্টবেঙ্গলকে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: ভাল দল গড়তে হবে
নিজস্ব সংবাদদাতা
মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সাফল্যে তিনি যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনই হতাশ মশালবাহিনীর ব্যর্থতায়। রবীন্দ্র সদনে বৃহস্পতিবার গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘শতবর্ষে ইস্টবেঙ্গল’ তথ্যচিত্র উদ্বোধনের পরে আলোয় ফেরার রাস্তাও দেখালেন। তিনি, মুখ্যমন্ত্রী
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ব্যর্থতার যন্ত্রণা নিয়েই বৃহস্পতিবার বিকেলে রবীন্দ্র সদনে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা। সোয়া পাঁচটা নাগাদ পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চে ইস্টবেঙ্গলের সভাপতি মুরারী লাল লোহিয়া, সচিব রূপক সাহা, অন্যতম শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকারের সঙ্গেই ছিলেন লাল-হলুদের লগ্নিকারী সংস্থার প্রধান আদিত্য বর্ধন আগরওয়াল। এখানেই শেষ নয়। ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং ইন্দ্রনীল সেন, মোহনবাগানের সচিব দেবাশিস দত্ত, মহমেডান স্পোর্টিংয়ের কর্তা মহম্মদ কামারুদ্দিন, সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এবং চিত্র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ছিলেন ঝুলন গোস্বামী এবং ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ও।
লাল-হলুদ কর্তাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘‘আমার একটা ক্ষোভ আছে। ইমামি ক্লাবকে অনেক সাহায্য করছে। কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার জন্য ভাল ফুটবলার প্রয়োজন। আমি ক্লাবকে বলব, আপনারা ঠিক পরামর্শ না দিলে ওঁরা এগোবেন কী করে? সব চেয়ে কষ্ট পাচ্ছেন সমর্থকেরাই। আমার মনে হয় না ইমামি সাহায্য করছে না। ওরা টাকা দিচ্ছে। কিন্তু বদলে ওদের ট্রফি তো দিতে হবে। অন্তত চেষ্টা তো করতে হবে।’’ ডায়মন্ড হারবার এফসি-র উদাহরণ দিয়ে যোগ করলেন, ‘‘শুধু অর্থ ব্যয় করলে হবে না। বুদ্ধি করে দল তৈরি করতে হবে। নীতুদাকে (দেবব্রত সরকার) বলছিলাম, আপনারা ভাল দল করছেন না কেন? ডায়মন্ড হারবারকে দেখে শিখুন। কেমন বুদ্ধি খাটিয়ে দল গড়েছে। ইস্টবেঙ্গলের কর্তারাও আগে থেকে ভাবুন, কাদের নেবেন। এক বছর ধরে পরিকল্পনা করুন। কঠোর সিদ্ধান্ত নিন। আগামী বছর যেন আর ব্যর্থতা না আসে।’’ আইডব্লিউএল জয়ী ইস্টবেঙ্গলকে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কারও দিলেন তিনি।
ইস্টবেঙ্গলের তথ্যচিত্র উদ্বোধনের অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী রাজারহাটে স্টেডিয়াম এবং ডুমুরজলায় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি গড়ার প্রস্তাব দিলেন সিএবি প্রেসিডেন্টকে। বাংলার ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার প্রধান যদিও এই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।
স্মরণীয়: ইস্টবেঙ্গলের তথ্যচিত্রের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী