আগ্নেয়াস্ত্র হাতে
যুবকেরা, ছবি
দেওয়ায় তদন্ত
নিজস্ব সংবাদদাতা
কৃষ্ণনগর: পহেলগামে জঙ্গি হামলার পরেই সমাজমাধ্যমে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের এক সংখ্যালঘু যুবকের ছবি দিয়ে তাঁকে তদন্তের আওতায় আনার দাবি তুলেছিল বিজেপি। শনিবার সেই যুবক ও তাঁর বাবা-মাকে কোতোয়ালি থানায় ডেকে দীর্ঘ ক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে পুলিশ সূত্রের খবর, রাত পর্যন্ত যুবকের কথাবার্তায় সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। নদিয়ার কৃষ্ণনগর পুলিশ-জেলা সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারাও যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।
যে ছবিগুলি সমাজমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়েছে, তাতে পাথুরে এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে কয়েক জনকে দেখা যাচ্ছে। সে রকমই এক জনের সঙ্গে আবার ওই যুবকের নিজস্বী রয়েছে। বিজেপির নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদারের দাবি, “আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যারা ঘোরাঘুরি করে তাদের সঙ্গে যে ওই যুবকের যোগাযোগ আছে, তা ছবিতে স্পষ্ট। তদন্ত হলে সত্য প্রকাশ পাবে।”
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জেনেছে, কৃষ্ণনগরের ওই যুবক গত জানুয়ারিতে কাজের খোঁজে দুবাইয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, হোটেলে ‘বয়’-এর কাজের কথা বলে তাঁকে সাফাইকর্মীর কাজ দেওয়া হয়েছিল। পছন্দ না হওয়ায় তিনি ফিরে আসেন। তার আগে কয়েক দিন শ্রমিকদের একটি শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয়। তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ নিজের এবং তার বন্ধুদের কিছু ছবি ছিল। সে দাবি করেছিল, তাদের এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘোরা বড় ব্যাপার নয়। এর সঙ্গে জঙ্গি কার্যকলাপের কোনও যোগ নেই।
পুলিশকে কৃষ্ণনগরের যুবক জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ওই যুবকের কাছ থেকে নিজের মোবাইলে কয়েকটি ছবি তিনি চেয়ে নিয়েছিলেন। জানুয়ারিতে তেমন কয়েকটি ছবি এবং ওই যুবকের সঙ্গে নিজের ছবি তিনি সমাজমাধ্যমে দেন। তা দেখে কয়েক জন সতর্ক করায় তিনি কয়েক দিনের মধ্যে সেই ‘পোস্ট’ মুছেও দেন। সম্ভবত তার মধ্যেই কেউ ওই ‘পোস্ট’-এর ‘স্ক্রিনশট’ নিয়ে রেখে থাকবে। কাশ্মীর হামলার পরে সেগুলি সমাজমাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। রাতে কোতোয়ালি থানার আইসি অমলেন্দু বিশ্বাস বলেন, “ওই যুবক জিজ্ঞাসাবাদে যা জানিয়েছেন, তাতে প্রাথমিক ভাবে জঙ্গি-যোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুমিত বিশ্বাস বলেন, “বিজেপির কোনও অভিযোগ থাকলে, তারা তা নির্দিষ্ট জায়গায় জানাক। তা না করে ওরা সমাজমাধ্যম মারফত মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।” তৃণমূলের কৃষ্ণনগর সংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমানের দাবি, “মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করাটাই বিজেপির কাজ। ওরা সেটাই করছে।”