বৈঠকে আমেরিকা-চিন, শুল্ক যুদ্ধে আশার আলো
জেনিভা, ১০ মে: ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মন্তব্য করেছিলেন, চিনা পণ্যের উপরে ১৪৫% আমদানি শুল্ক যথেষ্ট বেশি। তা ৮০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছিলেন, এ বার বেজিংয়ের সঙ্গে আলোচনার রাস্তা খুলতে চাইছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ঠিক সেই মতো সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনিভায় আলোচনা শুরু করল দুই পক্ষ। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আজ তাদের উপপ্রধানমন্ত্রী হি লিপেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আমেরিকার অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। ফলে শুল্ক
যুদ্ধের সমাধানের লক্ষ্যে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ। বিশেষ করে কয়েকটি দেশের মধ্যে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি যখন সাফল্যের দিকে এগোচ্ছে।
৫৬টি বাণিজ্য সহযোগী দেশের পণ্যের উপরে মোটা আমদানি শুল্ক চাপিয়েও তিন মাসের জন্য তা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। রেখেছেন ন্যূনতম ১০% শুল্ক। ব্যতিক্রম শুধু চিন। দুই দেশই পরস্পরের উপরে শুল্কের পাল্টা শুল্ক চাপিয়ে যাচ্ছিল। ওয়াশিংটনের তরফে বেজিংয়ের উপরে ১৪৫% শুল্ক চাপানো হয়েছে। কোনও কোনও শ্রেণির পণ্যে তা ২৪৫%। আর চিন চাপিয়েছিল ১২৫%। আর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, এই রকম উঁচু শুল্কের ফলে দুই দেশের বাণিজ্য এখন কার্যত বন্ধ। আমেরিকার দিক থেকে উদ্যোগ শুরু না হলে তাদেরও পিছিয়ে আসার কোনও কারণ নেই। সেই সঙ্গে আগে প্রত্যাহার করতে হবে চড়া শুল্ক। সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যাখ্যা, এই অবস্থায় ট্রাম্প উদ্যোগী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। যদিও এখনই শুল্ক যুদ্ধের শীতলতা কাটার সম্ভাবনা নেই। তবে প্রাথমিক পদক্ষেপ শুরু হল।
শুল্ক যুদ্ধের আবহে বিভিন্ন দেশ তাদের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থাকে জোরদার করতে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ভারত এবং ব্রিটেনের মধ্যে সেই সংক্রান্ত কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে দিল্লির। গতকাল নিউ জ়িল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম দফার বাণিজ্য আলোচনা শেষ করেছে ভারত। চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা সফল ভাবে শেষ করেছে আমেরিকা এবং ব্রিটেন। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, শুল্ক যুদ্ধে এখনই দাঁড়ি পড়ার আবহ তৈরি না হলেও দেশগুলি পদক্ষেপ করছে ইতিবাচক দিকে। আজ চিনের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই স্পষ্ট যে, শুল্ক সংঘাত কোনও পক্ষই আর টেনে নিয়ে যেতে চাইছে না।
সংবাদ সংস্থা