আজ অনুব্রত কি থাকবেন বৈঠকে
নিজস্ব সংবাদদাতা
সিউড়ি ও বোলপুর: যে কোর কমিটির বৈঠক না হওয়া নিয়ে বীরভূম জেলা তৃণমূলে বিভাজন হয়েছে বলে দাবি, অনুব্রত (ওরফে কেষ্ট) মণ্ডলকে জেলা সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পরের দিনই সেই কমিটির বৈঠক ডাকা হল। শনিবার জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন তথা কোর কমিটির অন্যতম সদস্য আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আজ, রবিবার সকালে সেই বৈঠক হওয়ার কথা বোলপুরের তৃণমূল কার্যালয়ে। বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়, কোর কমিটির ন’জন সদস্য, বিশেষ করে অনুব্রত উপস্থিত থাকেন কি না, এমন নানা বিষয়ে কৌতূহল রয়েছে দলের অন্দরে। অনুব্রত শুধু বলেছেন, “পদের জন্য কোনও দিন দল করিনি।”
তৃণমূল সূত্রের খবর, প্রায় দু’মাস পরে ফের ডাকা হয়েছে কোর কমিটির বৈঠক। আশিস এ দিন জানান, প্রাথমিক ভাবে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল সিউড়িতে। রবিবার বোলপুরে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুষ্ঠান রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে অনুব্রতও থাকতে পারেন বলে খবর। আশিস বলেন, “সিউড়িতে কোর কমিটির বৈঠক বসলে, বোলপুর থেকে সময়ে সিউড়ি আসতে সমস্যা হবে— অনুব্রত মণ্ডলের তরফে এ কথা জানানোর পরেই বৈঠকের জায়গা বদলানো হয়েছে।” সেই সূত্রে দলের অনেকে মনে করছেন, অনুব্রত হয়তো রবিবারের বৈঠকে থাকবেন।
বীরভূমে সাংগঠনিক দায়িত্ব কোর কমিটি মিলেমিশে চালাবে, আগে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছিলেন। সেই কমিটিকে এড়িয়ে প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত একক ভাবে অনেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন— ছিল অভিযোগ। শুক্রবার তৃণমূল নানা জেলার জেলা সভাপতি ও চেয়ারপার্সনদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে ফের স্পষ্ট, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে দেওয়া কোর কমিটির হাতেই থাকছে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব। তালিকায় রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, জেলা সভাপতি পদে কারও উল্লেখ নেই।
গরু পাচার মামলায় গ্রেফতারি ও জেলে যাওয়ার আগে পর্যন্ত বীরভূমে তৃণমূলের ‘শেষ কথা’ বলা অনুব্রতকে তালিকায় রাখা হয়েছে কোর কমিটির অন্যতম সাধারণ সদস্য হিসেবে। তাতে উচ্ছ্বসিত জেলায় দলের অন্দরে অনুব্রতের বিরোধী শিবিরের বলে পরিচিত, জেলা সভাধিপতি কাজল শেখের অনুগামীরা। কাজল মন্তব্য করেননি। এ দিন সকালে কাজল-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক যুবক সমাজমাধ্যমে লেখেন, “ইতিহাসকে জানতে হবে, দিদি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা কোর কমিটিকে মানতে হবে।” এক অনুব্রত অনুগামী পাল্টা ‘পোস্ট’ করেন, “সবার নেত্রী যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা হলে বীরভূমের অভিভাবকও কেষ্ট মণ্ডল। একটা বাড়িতে একটাই মাথা থাকে।”
যাঁকে ঘিরে এত চর্চা, সেই অনুব্রত শুক্রবার নতুন তালিকা নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে এ দিন তিনি বলেন, “এর আগেও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে রাজ্যসভার সাংসদ করতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম, তা হলে দল করব না। আমার কাছে পদ নয়, দলই বড়।” তাঁর সংযোজন: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে দল করতে এসেছি। আমার পদের লোভ নেই।”