কোনটা দেশপ্রেম
রোহন ইসলামের ‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ’ (১০-৫) উত্তর-সম্পাদকীয় প্রসঙ্গে এই চিঠি। প্রবন্ধকার আমাদের মতো অনেকের না বলা ভয় ও ভাবনাগুলো স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরেছেন। সময়টা ১৯৬৪-৬৫। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ চলছে। এক রাতে আমার সরকারি অফিসার কাকাকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে প্রায় দশ মাস আটকে রাখে। কাকা গানবাজনা ও লেখালিখি নিয়ে থাকতেন। ধর্ম বিষয়ে তাঁর কোনও আগ্রহ ছিল না। তবুও কাকা মুসলিম বলে পাকিস্তানের চরবৃত্তি করতে পারেন, এই সন্দেহে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ রকম একটা দমবন্ধ করা পরিবেশে, অপরিসর গণ্ডির মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুকন্যাটি নিজে থেকেই বুঝে যায় তার সীমাবদ্ধতা। সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে এটা স্বাভাবিক— এমনটা মেনে নিয়েই সে একাধিক বার হেনস্থা হয়েও অন্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক মেলামেশা করে বড় হয়। নিজের দেশ, সংস্কৃতিকে নিজের জেনে ভালবেসেও তা অনেককেই বিশ্বাস করাতে পারে না। কোথাও কোনও অঘটন ঘটলেই তাদের কাঠগড়ায় তোলা হয়। কটূক্তি শুনেও চুপ থাকতে হয়। দাড়ি, টুপি থাকলে তো কথাই নেই। এই আচরণ যারা করে থাকে তারা আর যা-ই হোক, কোনও দিন দেশপ্রেমিক হতে পারে না। এগুলো তাদের জাতিগত বিদ্বেষ ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ। অবশ্যই সবাই এ রকম নন। তাই বহু মানুষের থেকে পেয়েছি সম্মান ও ভালবাসা। দিয়েছিও উজাড় করে।
রোশেনারা খান
মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর