পটনার জনসভায় দলের কেউ যাবেনই: অভিষেক
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি, ১২ অগস্ট: আগামী ১ সেপ্টেম্বর পটনার জনসভায় উপস্থিত থাকতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী ও আরজেডির তেজস্বী যাদব। আজ এই নিয়ে অভিষেককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে দলের ভিতর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কে যাবে। তবে অবশ্যই কেউ যাবে।” গত কাল ইন্ডিয়া মঞ্চের সাংসদদের নির্বাচন কমিশন অভিযানে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। আজ জানালেন, “বিরোধীদের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় হয়েছে গত কাল।”
আজ সকালে দিল্লির বিমান ধরার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে অভিষেক বলেন, ‘‘যেখানে বিরোধীরা ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে জোরজবরদস্তি এসআইআর করা হবে। নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করলে, বিজেপি উত্তর দেবে কেন? তাদের কী দায়? আমরা এটা করতে দেব না।” তাঁর কথায়, “কমিশন বলছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের কথা মেনে নিলে, সেই তালিকার ভিত্তিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। বিজেপির ২৪৩ জন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। তা হলে আগে সেই নির্বাচিত লোকসভা ভেঙে দেওয়া হোক। তার পর গোটা দেশে এসআইআর করুক নির্বাচন কমিশন। গুজরাতে হবে না, উত্তরপ্রদেশে হবে না, বাংলায় হবে— এটা হতে পারে না। এসআইআর হলে গোটা দেশে হবে।’’
আজ সকালে তৃণমূল সংসদ চত্বরে ধর্না দিয়েছে, প্রথমে বাংলা ভাষা এবং পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্থা নিয়ে। সেখানে অতিথি হিসাবে ছিলেন এসপি সাংসদ জয়া বচ্চন। পরে ইন্ডিয়া মঞ্চ সম্মিলিত ভাবে ‘ভোট চুরি’ নিয়ে ধর্না দেয়। লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে ইস্তাফা দেওয়ার পর আজ প্রথম দলীয় ধর্নায় হাজির ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর চিরাচরিত উচ্চকন্ঠে স্লোগান শুনে অন্য বিরোধী দলের সাংসদদের বলতে শোনা যায়, তৃণমূলে আবার উচ্চকন্ঠ ফিরল! দুপুরে রাজেন্দ্রপ্রসাদ রোডে তৃণমূলের নতুন কার্যালয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের সাংসদেরা মধ্যাহ্নভোজ সারেন। ছিলেন কল্যাণও। গত কাল সংসদীয় হাউস কমিটির বৈঠকে কল্যাণের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময় নিয়ে, চলতি রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে কিছু গুঞ্জন ওঠে। কল্যাণ সেই গুঞ্জন নিরসন করতে চেয়ে তাঁর এক্স হ্যান্ডলে আজ জানান, কমিটির বৈঠক এবং সুপ্রিম কোর্টে তাঁর দলের ভোটার তালিকা পরিমার্জন সংক্রান্ত জরুরি মামলা থাকায় তিনি দলীয় ধর্নায় যোগ দিতে পারেননি। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আনুগত্য প্রশ্নাতীত এবং সেটা ভবিষ্যতে বহালই থাকবে।