বঙ্গে নিপা সংক্রমণে উৎস এখনও অজানা
নিজস্ব প্রতিবেদন
বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুণ নার্সকে বার করা হয়েছে ভেন্টিলেশন থেকে। তবে তাঁকে এখনই সঙ্কটমুক্ত বলছেন না চিকিৎসকেরা। এখনও ভেন্টিলেশনে রয়েছেন তরুণী নার্স। প্রাথমিক ভাবে বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, ওই দু’জন একে অপরের সংস্পর্শে সংক্রমিত হননি। বরং তৃতীয় কারও থেকে ওই দু’জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
বারাসতে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই ওই দুই নার্স ভেন্টিলেশনে ছিলেন। বৃহস্পতিবার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা তরুণ নার্সকে ভেন্টিলেশন থেকে বার করার সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তারেরা। তাঁরা জানান, ওই তরুণ উঠে বসছেন, কথাও বলছেন। তরুণীর শারীরিক অবস্থার নতুন করে অবনতি হয়নি। বরং তিনি অল্প হলেও হাত-পা নাড়ছেন। কিন্তু ওই দু’জনের সংক্রমণের ‘কমন’ উৎস কী, অনুসন্ধান করছে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিশেষজ্ঞ দল।
সূত্রের খবর, বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি অজানা জ্বর ও ‘অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম’ (এআরডিএস) নিয়ে এক রোগী মারা যান। তাঁর শুশ্রূষার দায়িত্বে ছিলেন ওই দুই নার্স। কিন্তু ওই রোগীই নিপা ভাইরাস সংক্রমণের উৎস কি না, তা-ও নিশ্চিত নয়। এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, “নির্দিষ্ট ভাবে সংক্রমণের উৎস বলার অবস্থা এখনও আসেনি। বিশেষজ্ঞদের একটি দল ওই কাজ করছেন।” কেন্দ্রের তরফেও প্রাণী পর্যবেক্ষণের বিশেষজ্ঞ দল রাজ্যে এসে কাজ করছে।
সন্দেহভাজন নিপা-আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষার জন্য বেলেঘাটার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন ব্যাকটিরিয়াল ইনফেকশন’ বা ‘এনআইআরবিআই’ (পূর্বতন নাইসেড)-কে নোডাল সেন্টার করা হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা নমুনা পরীক্ষা চলছে। এর অধিকর্তা শান্তসবুজ দাস বলেন, “আতঙ্কের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। তাই মানুষকে সব সময় মাস্ক পরে ঘুরতে হবে বা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে, এমনটা নয়।” তবে হাসপাতালে যাওয়ার সময়ে মাস্ক পরা প্রয়োজন, জানান তিনি। তিনি আরও জানান, দু’জন আক্রান্ত হয়েছেন জানার পরেই জোরদার পদক্ষেপ করা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠন করে কাজ করছে। সংস্পর্শে আসাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। সন্দেহজনক রোগী এলে কী করতে হবে, কোথায় নমুনা পাঠাতে হবে, সে বিষয়েও রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
প্রাথমিক ভাবে নদিয়ার ঘুঘড়াগাছিতে গিয়ে তরুণী নার্স সংক্রমিত হয়েছেন বলে মনে করা হলেও কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ দল জানিয়েছে, আদতে তেমনটা নয়। এ দিন দলটি ওই গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে। বিজয়পুর সীমান্তে একটি গাছে বেশ কিছু বাদুড় দেখা যায়। তবে জেলার স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি, তার সঙ্গে নার্সের নিপা সংক্রমণের যোগ মেলেনি।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে ওই দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা ১৩ জনের সবার রিপোর্টই নেগেটিভ। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরে তরুণী নার্সকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল ও বর্ধমান মেডিক্যালে নেওয়া হয়। দু’জায়গায় তাঁর সংস্পর্শে আসা ডাক্তার, নার্স-সহ অন্যদের চিহ্নিত করা হয়। জেলার মোট ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষায় পাঠানো হয়। তাঁদের ১৪ জন ‘নেগেটিভ’। বাকিদের রিপোর্ট এখনও আসেনি। জেলার হাসপাতালগুলিকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়াদের বিশদ তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করতে বলা হয়েছে। হাসপাতালের কর্মীদের গ্লাভস ও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হয়েছে।