ফের বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সঞ্জুরা
সুমিত ঘোষ l মুম্বই
৫ মার্চ: বিশ্বকাপ, ভারত এবং মোড় ঘোরানো অবিশ্বাস্য ক্যাচ! কোথাও কি একটা নিবিড় যোগাযোগ আছে? অলক্ষ্যে বসে মহাশক্তিমান কেউ কি বারবার এই চিত্রনাট্যটা লিখে দেন যে, ভারতকে যদি বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক কিছু করতে হয়, কাউকে একটা জাদু-ক্যাচ ধরতে হবে!
তিরাশিতে কপিল দেবের পঁচিশ গজ পিছনে দৌড়ে ভিভ রিচার্ডসের ক্যাচ। ভারতীয় ক্রিকেটের চিরকালীন জাদুঘরে যা এমন ভাবে স্থান করে নিয়েছে যে, যখনই বিশ্বকাপে কেউ দুর্ধর্ষ ক্যাচ ধরবে, ফ্ল্যাশব্যাকে ২৫ জুন, লর্ডস মনে পড়ে যাবে। ২০২৪-এর বার্বেডোজ়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বাউন্ডারি লাইনে সূর্যকুমার যাদবের ক্যাচ। যা প্রায় স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার মুখ থেকে ম্যাচে ফিরিয়ে রোহিত শর্মার হাতে কাপ তুলে দেয়। গত বছর ডিওয়াই পাটিলে হরমনপ্রীত কৌরের শূন্যে ভেসে উঠে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ ব্যাটারকে তালুবন্দি করা আর তার পর ভাংড়ার উৎসব শুরু।
এর সঙ্গে যুক্ত হল ৫ মার্চ, ২০২৬-এর ওয়াংখেড়ে। অক্ষর পটেলের অবিশ্বাস্য রিলে ক্যাচ। যা জেকব বেথেল ও উইল জ্যাক্সের জুটি ভেঙে প্রায় নিস্তব্ধ হয়ে পড়া ওয়াংখেড়েকে ফের জাগিয়ে তুলল। যদিও এটা কাপ ফাইনাল নয়, সেমিফাইনাল। তাতে কী, এই বিস্ময় ক্যাচটা না হলে যে আমদাবাদের পথে যাওয়াই আটকে যাচ্ছিল। কাপের স্বপ্নভঙ্গ ঘটিয়ে শোকস্তব্ধ রাত এনে দেওয়ার উপক্রম করছিল। ডিপ কভার থেকে দৌড়ে গিয়ে উইল জ্যাক্সের ক্যাচ দারুণ ভাবে ধরার পরেও অক্ষর দেখলেন, ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছেন না। বাউন্ডারি লাইনের উপরে পড়ে যাবেন। তক্ষুনি তিনি বলটা মাঠের ভিতরে ছুড়ে দিলেন। তাঁকে অনুসরণ করে দৌড়চ্ছিলেন শিবম দুবে। ছুড়ে দেওয়া বল লুফে নিলেন দুবে। ওয়াংখেড়ে ক্রমশ নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছিল। বেথেল-জ্যাক্স জুটি ভাঙা গিয়েছে দেখে এমন গর্জন করে উঠল যে, পাশের আরব সাগরের ঢেউয়ের আওয়াজও তাতে চাপা পড়ে যেতে পারে।
আইপিএল যুগে অহরহ এমন ক্যাচ দেখা যাচ্ছে। এর নামই রিলে ক্যাচ। তা বলে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে?