চাপ বাড়িয়ে এ বার প্রাক্তন আইপিএস
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি, ৫ মার্চ: বৃহস্পতিবার দুপুরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দফতর জানিয়েছিল, শুক্রবার সি ভি আনন্দ বোস দার্জিলিংয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুষ্ঠানে থাকবেন। তার চার-পাঁচ ঘণ্টা পরেই, সন্ধ্যায় রাজ্যপাল বোস দিল্লিতে সেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন।
বোসের ইস্তফার পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে জানিয়ে দিলেন, বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি বা আর এন রবি পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হতে চলেছেন। এই রবির বিরুদ্ধেই তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন প্রতিনিয়ত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। এবং যিনি প্রাক্তন আইপিএস, প্রাক্তন উপ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাও বটে।
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়। আজ রাজ্যপালের পদে ন’টি রদবদল হয়েছে। আর এন রবিকে তামিলনাড়ু থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল করে কেরলের রাজ্যপাল আর ভি আর্লেকরকে সে রাজ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দিল্লির উপরাজ্যপাল পদ থেকে ভি কে সাক্সেনাকে সরিয়ে লাদাখে উপরাজ্যপাল করা হচ্ছে। লাদাখের উপরাজ্যপাল কবীন্দ্র গুপ্তকে পাঠানো হচ্ছে হিমাচলের রাজ্যপাল হিসেবে। দিল্লির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রাক্তন কূটনীতিক তরণজিৎ সিংহ সান্ধুকে। বিহারে আরিফ মহম্মদ খানকে সরিয়ে নতুন রাজ্যপাল করা হয়েছে সেনার অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনান্ট জেনারেল সৈয়দ আটা হাসনয়নকে। তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্রেও রাজ্যপাল পদে রদবদল করা হয়েছে। রাজনৈতিক শিবির মনে করছে, মোদী সরকার পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আগে রাজ্যপাল পদ থেকে বোসকে সরিয়ে আর এন রবিকে বসানোর পরিকল্পনা নিয়েইছিল। একটি ঘুঁটি সরাতে গিয়ে অন্য বেশ কিছু ঘুঁটি সরাতে হচ্ছে। সেই কারণেই একাধিক রাজ্যপাল বদলের প্রয়োজন হয়েছে। বিজেপির এক শীর্ষ সূত্রের বক্তব্য, ‘‘এর পিছনে কী খেলা রয়েছে, তা ক্রমশ প্রকাশ্যে আসবে।’’
‘রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধিতে’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে রাজ্যপালকে ইস্তফা দিতে হয়েছে কি না, তা নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন। সি ভি আনন্দ বোস নিজে অবশ্য দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে ইস্তফা দিয়ে বঙ্গভবনে ফিরে বলেন, ‘‘আমি রাজ্যপালের পদে যথেষ্ট সময় কাটিয়েছি।’’ বোস ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২০২৭-এর নভেম্বর পর্যন্ত, অর্থাৎ আরও ২০ মাস রাজ্যপাল হিসেবে তাঁর মেয়াদ ছিল।
কেরলের অবসরপ্রাপ্ত আইএএস সি ভি আনন্দ বোসকে সরিয়ে অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস আর এন রবিকে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপাল হিসেবে পাঠানোর পিছনে মোদী সরকার, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের পরিকল্পনা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক শিবিরে প্রশ্ন, এসআইআর-এর কাজ শেষ না হলে