ফের চলছে পশ্চিম এশিয়ার কিছু উড়ান, তবু ভোগান্তি অব্যাহত
নিজস্ব সংবাদদাতা
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে গত শনিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কলকাতা থেকে শেষ বার উড়েছিল এমিরেটসের দুবাইগামী উড়ান। সেই উড়ানের প্রায় ১১৩ ঘণ্টা পরে, বুধবার রাত ২টো ৪০ মিনিটে ফ্লাই দুবাইয়ের উড়ান নামল কলকাতায়। এই ১১৩ ঘণ্টায় কলকাতা থেকে পশ্চিম এশিয়ার ৪০টির মতো উড়ান বাতিল হয়েছে।
গোটা দেশের নিরিখে বাতিল হওয়া উড়ানের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। যা প্রায় ন’লক্ষ যাত্রীকে বিপাকে ফেলেছে।
বছরভর সারা বিশ্বে যত যাত্রী আন্তর্জাতিক যাত্রা করেন, তাঁদের এক-দশমাংশই দুবাই হয়ে যান। এমন ব্যস্ত বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের বিমান সংস্থাগুলি অথৈ জলে পড়েছিল। দুবাই থেকে সংখ্যায় কম হলেও ধাপে ধাপে উড়ান চলাচল শুরু হওয়ায় বৃহস্পতিবার কিছুটা স্বস্তিতে বিমান সংস্থাগুলি। অল্প সংখ্যায় উড়ান চলাচল শুরু হয়েছে জেড্ডা, মদিনা, আবু ধাবি থেকে। মাসকাট থেকে এয়ার ইন্ডিয়া ভারতের নানা শহরে পরিষেবা স্বাভাবিক করেছে।
আটকে পড়া যাত্রীদের অনেকে ভারতে ফেরার উড়ান ধরার চেষ্টায় রয়েছেন। তাঁদের ফেরাতে এয়ার ইন্ডিয়া দুবাই ও জেড্ডা থেকে বিশেষ বিমান চালিয়েছে। আজ, শুক্রবার থেকে তারা দিল্লি ও মুম্বই থেকে জেড্ডাগামী উড়ানের পরিষেবাও শুরু করতে চলেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উড়ান চলাচল নিষিদ্ধ থাকায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি আজ়ারবাইজ়ান, আর্মেনিয়া অথবা ইথিয়োপিয়া হয়ে উড়ান চালানোর ঝুঁকি নেয়নি। জ্বালানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও উড়ানের সময় নিয়ে নানা জটিলতা আঁচ করেই ইউরোপ ও আমেরিকার উড়ান বাতিল করার কথা জানিয়েছে সংস্থাগুলি। সেই সব উড়ান কবে আবার চালু হবে, তা স্পষ্ট নয়। তবে, পশ্চিম এশিয়ার কিছু বিমানবন্দর থেকে ওই পরিষেবা শুরু হয়েছে। ফলে, দিল্লি থেকে বিমানের অগ্রিম টিকিটের দাম কিছুটা কমেছে। দিন দশেকের মধ্যে লন্ডনের উড়ানের ইকনমি শ্রেণির টিকিট ১ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। নিউ ইয়র্কের টিকিট ১ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৬০ হাজারের মধ্যে রয়েছে।
এরই মধ্যে বুধবার রাতে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লিগামী উড়ান নিষিদ্ধ আকাশসীমা পেরিয়ে উড়ে এসেছে বলে খবর ছড়ায়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এমএইচ-১৭ বিমান অ্যামস্টারডম থেকে কুয়ালা লামপুরের দিকে আসার সময়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পূর্ব ইউক্রেনে ভেঙে পড়ে। ২৮৩ জন যাত্রী ও ১৫ জন বিমানকর্মীর মৃত্যু হয়। এ দিন এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ান নিয়ে খবর ছড়ানোয় সমাজমাধ্যমে অনেকেই সেই ঘটনার কথা মনে করান। এয়ার ইন্ডিয়া ওই খবর ভুয়ো বলে দাবি করে।
বুধবার কলকাতা-দুবাই উড়ান পরিষেবা শুরু হয়েছে। বুধবার রাত ২টো ৪০ মিনিটে দুবাই থেকে কলকাতায় পৌঁছয় প্রথম উড়ান। ফ্লাই দুবাইয়ের ওই উড়ানে ১৩০ জন যাত্রী ছিলেন। পরে ভোর ৪টে নাগাদ ৫৫ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি ফের দুবাইয়ে যায়। বৃহস্পতিবারও কলকাতা থেকে পশ্চিম এশিয়ার কিছু উড়ান বাতিল হয়েছে। তার মধ্যে এমিরেটসের দু’টি, কাতার এয়ারওয়েজ়ের একটি এবং এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি উড়ান আছে।