ভোট হবে শান্তিপূর্ণ, আশ্বাস নবনিযুক্ত নগরপালের
নিজস্ব সংবাদদাতা
অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট নিয়ে নানা সময়ে বিরোধী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের
মুখে পড়তে হয়েছে পুলিশকে। বহু ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়েও। কলকাতার নতুন নগরপাল অজয়কুমার নন্দ দায়িত্ব নেওয়ার পরে দ্বিতীয় দিনে শহরবাসীকে এ নিয়ে আশ্বস্ত করলেন। দিলেন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ
ভোটের আশ্বাস। নগরপাল জানান, শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য সব রকম প্রস্তুতি চলছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনের
উচ্চ স্তরে একাধিক রদবদলের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সোমবার সকালে কলকাতার নগরপাল সুপ্রতিম সরকারকে দায়িত্ব থেকে অপসারিত করা হয়।
নগরপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস অজয়কুমার নন্দকে। ওই দিনই তিনি লালবাজারে এসে দায়িত্বভার নিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরে মঙ্গলবার
লালবাজারে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানেই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের আশ্বাস দিলেন নতুন নগরপাল। অজয়কুমার এ দিন বলেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ
নির্বাচন করানো আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সব দিক থেকে সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে। আমি নিজেকে এই কাজে অকৃতকার্য হিসাবে
দেখতে চাই না।’’ এর পরে তাঁর মন্তব্য, ‘‘নগরপাল হিসাবে কলকাতা পুলিশের বাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়া আমার কাজ। সেই কাজ আমি যথাযথ ভাবে করছি কিনা, সেটাই আমার কাছে প্রধান বিচার্য।’’
গত ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেডের সভার দিনই বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছিল গিরিশ পার্ক এলাকা। মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। কেন ঘটনার পরেও সে দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি, সেই প্রশ্ন ওঠে। যার পরিপ্রেক্ষিতে নগরপাল বলেন, ‘‘এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেটা দেখা হবে। তবে ওই দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী কিছুটা দূরে ছিল। তা ছাড়া, কলকাতা পুলিশ যে কোনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম।’’ গত কয়েক মাসে কলকাতার একাধিক জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ঘটেছে। দক্ষিণ কলকাতার কাঁকুলিয়া রোডে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে বোমা, গুলি চলে বলেও অভিযোগ। সংঘর্ষে নাম জড়ায় সোনা পাপ্পুর। ঘটনার পরে কয়েক সপ্তাহ পেরোলেও রাজনৈতিক মদত থাকায় তাকে গ্রেফতার না করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে নগরপাল জানান, বিষয়টি দেখা হবে।