ভবানীপুরের তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ
নিজস্ব সংবাদদাতা
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটে ব্যবহৃত সব ইভিএম, ভিভিপ্যাট, কন্ট্রোল ইউনিট, ব্যালট ইউনিট, গণনা কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরার তথ্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে সংরক্ষণের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ওই কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল নিয়ে নির্বাচনী মামলা (ইলেকশন পিটিশন) দায়ের করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত সেই মামলা গ্রহণ করেন এবং তার পরেই নির্বাচন কমিশনকে ওই নির্দেশ দেন। বিচারপতির আরও নির্দেশ, মামলায় যুক্ত বিবাদী পক্ষদের নোটিস দেবেন হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার (অরিজিনাল সাইড)। তিন সপ্তাহ পরে ফের মামলাটি শুনানির
তালিকায় থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা। পরে ভবানীপুর থেকে উপ-নির্বাচনে জেতেন তিনি। নন্দীগ্রামের ভোটের ফলাফল নিয়েও তিনি হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
এ দিন শুনানির শুরুতেই মমতার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বিচারপতি কান্ত বলেন, ‘‘আমার দাদা বিজেপির জাতীয় স্তরের মুখপাত্র। আপনার আপত্তি থাকলে অন্য বেঞ্চে এই মামলা করতে পারেন।’’ যদিও কল্যাণ জানান, বিচারপতি এবং বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতার উপরে তাঁদের আস্থা আছে। অনেকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০২১ সালের বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে নির্বাচনী মামলা দায়ের হয়েছিল। সে সময়ে বিচারপতি চন্দের ‘রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতার তরফে মামলা স্থানান্তরের আর্জি জানানো হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা ছেড়ে দিলেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেরও নির্দেশ
দেন বিচারপতি।
এ দিন কল্যাণের অভিযোগ, গণনায় কারচুপি হয়েছে। ১২ রাউন্ড পর্যন্ত মমতা এগিয়ে থাকলেও পরে তাঁর কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করে বার করে দেওয়া হয়। সে সময়ে বিজেপির লোকজন গণনা কেন্দ্রে ঢুকলেও প্রার্থী হিসেবে মমতাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
তৎকালীন সিইও (বর্তমানে মুখ্যসচিব) মনোজ আগরওয়াল এবং বিশেষ পর্যবেক্ষক (বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা) সুব্রত গুপ্তের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন কল্যাণ। নির্বাচনের পরেই এই দু’জনের পদপ্রাপ্তি নিয়েও কার্যত প্রশ্ন তুলেছেন
তিনি। ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ।