মোগল, পাঠানের নাম থাকবে না: মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব সংবাদদাতা
শহরের ৯৩ বছরের পুরনো রাস্তা সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পাল্টে গোপাল মুখার্জি রোড করা নিয়ে যে বিতর্ক, তার আঁচ দেখা গেল রাজ্য বিধানসভাতেও। নাম-বিতর্ককে আমল না দিয়ে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, এ বার থেকে নামকরণ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য স্বামী প্রদীপ্তানন্দের (কার্তিক মহারাজ) নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘মোগল-পাঠান, অত্যাচারী ব্রিটিশদের নামে’ কলকাতায় কিছুর নাম থাকবে না। ‘মোগল-পাঠানে’ আপত্তি থাকলে রবীন্দ্রনাথের কবিতার লাইনও নিষিদ্ধ হবে কি না, প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম!
রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণের উপরে যে বিতর্কে এ দিন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তার নাম-বদল প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তিনি বলেছেন, “ইতিহাসকে চাইলেই মুছে ফেলা যায় না। রাস্তার নামবদলের সূত্রে সুরাবর্দি বা বীণা দাসের নাম আসছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বীণা যাঁর উপরে গুলি চালিয়েছিলেন, তৎকালীন সেই গভর্নর জেনারেল স্ট্যানলি জ্যাকসন বিধানসভা ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের সময়েও ছিলেন। তাঁর নামও আছে ফলকে। সেটাও উপড়ে ফেলা হবে?” ঋতব্রতের প্রস্তাব, গোপালের নামে কোনও রাস্তার নামকরণ করতে হলে, সেটা তাঁর বাসস্থান ও কর্মক্ষেত্র যেখানে, সেই বউবাজারে করা যেত।
এর পরেই জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রীও পাল্টা ইতিহাস-সূত্রে বলেছেন, “সুরাবর্দির নাম থাকবে কেন? পাঁচটা গুলি চালিয়েছিলেন যে স্বাধীনতা সংগ্রামী, সেই বীণা দাসকে ব্রিটিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তৎকালীন উপাচার্যকে (হাসান সুরাবর্দি) নাইট উপাধি দেওয়া হয়েছিল।” শুভেন্দুর সংযোজন, “মোগল-পাঠানদের নাম কলকাতায় থাকবে না! নোয়াখালির দাঙ্গা, ক্যালকাটা কিলিং আর অত্যাচারী ব্রিটিশ, কারও নাম থাকবে না। ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া অন্য কোনও বিদেশির নাম রাখতে হলে পাঁচ বার ভাবতে হবে। স্বামী প্রদীপ্তানন্দের নেতৃত্বে নতুন করে নামকরণ মূল্যায়নের কমিটি ঘোষণা করছি। যার যা প্রস্তাব আছে, সেখানে দেবেন।”
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর পাল্টা মত, ‘‘যোগী আদিত্যনাথের অনুকরণে এই সরকার চলছে। ইতিহাস পড়ে দেখার প্রয়োজন নেই, নাম বদলে দিলেই হল— এটাই মনোভাব। বিদেশি নাম যখন থাকবে না, মাদার টেরিজ়ার নাম থাকবে? আর রবীন্দ্রনাথ যে লিখেছিলেন ‘শক-হুন-দল পাঠান মোগল এক দেহে হল লীন’, সেই লেখাও কি নিষিদ্ধ হয়ে যাবে?’’