আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে ফের ক্ষুব্ধ ইরান
তেহরান, ২৩ জুন: প্রথম দফার শান্তি আলোচনার পরে ইরানের খনিজ তেল উত্তোলন এবং তা বিক্রির উপরে নিষেধাজ্ঞা সাময়িক ভাবে শিথিল করতে রাজি হয়েছে আমেরিকা। সেই সঙ্গে আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বাজেয়াপ্ত থাকা ইরানের প্রায় ১২০০ কোটি আমেরিকান ডলারও তেহরানের হাতে তুলে দিতে রাজি ওয়াশিংটন। আজ ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে এ কথা জানানো হয়েছে। যদিও সেই অর্থের ব্যবহার ঘিরে চাপানউতোর শুরু হয়েছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরানের মধ্যে।
সোমবার (আমেরিকার সময়) ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সাক্ষাৎকারে জানান, বাজেয়াপ্ত থাকা ইরানি অর্থ মুক্ত করা হলে তাতে আখেরে লাভবান হবেন আমেরিকার কৃষকেরা। তাঁর দাবি, সেই অর্থ ব্যবহার করে আমেরিকার থেকে বিভিন্ন কৃষিপণ্য-সহ উন্নত পদ্ধতিতে চাষের সরঞ্জাম কিনতে সম্মত হয়েছে ইরান। যদিও ট্রাম্পের সেই দাবি খারিজ করেছে তেহরান। সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনিভায় রাষ্ট্রপুঞ্জের দফতরে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি আলি বাহরেইনি আজ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘নিষেধাজ্ঞা ওঠার পরে ওই অর্থ নিয়ে কী করা হবে, সে সিদ্ধান্ত কেবল তেহরানই নেবে।’’ পাশাপাশি, সেই অর্থ নির্দিষ্ট কোনও খাতে খরচের বিষয়ে বিশ্বের কোনও দেশের চাপের কাছে ইরান নতিস্বীকার করবে না বলেও জানান তিনি।
তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘ভার্চুয়াল’ পদ্ধতিতে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরেও লেবাননের উপর টানা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল ইজ়রায়েল। অন্য দিকে, তেহরানও সাফ জানিয়ে দিয়েছিল লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী নয় তারা। এমন
পরিস্থিতি ক্রমেই চাপ বাড়ছিল ট্রাম্পের উপর। তবে আজ দুপুরে ওয়াশিংটনে হিজ়বুল্লার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে ইজ়রায়েল। গত এপ্রিল মাস থেকে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে মোট চার বার মুখোমুখি
বসেছিল ইজ়রায়েল এবং হিজ়বুল্লা। তাতেও সংঘর্ষ থামেনি। যদিও আজকের এই আলোচনার পরে পাকাপাকি ভাবে যুদ্ধ থামবে বলে আশায় লেবানন।
শান্তিচুক্তিতে অগ্রগতি হতেই জাহাজ চলাচল বেড়েছে হরমুজ় প্রণালীতে। গত রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত হরমুজ় পার হয়েছে ২৪টিরও বেশি জাহাজ। যদিও সংখ্যাটা হরমুজ় অবরুদ্ধ হওয়ার আগের পরিস্থিতির তুলনায় নগণ্যই। খবর, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন গড়ে ১২০টির কাছাকাছি জাহাজ পার হত হরমুজ় দিয়ে। যদিও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফের একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ‘‘আমিই সেই ব্যক্তি, যে প্রথম স্পষ্ট ভাষায় বলেছিল, হরমুজ় কখনই আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।’’
সংবাদ সংস্থা