জোড়া গোলে জবাব রোনাল্ডোর
নয়, রোনাল্ডোকে নিয়ে পর্তুগালের অন্দরমহলেই নাকি প্রবল অশান্তি শুরু হয়ে গিয়েছে। অধিনায়কের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে সতীর্থরাও।
উজ়বেকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৭ মিনিটে মেন্দেসের গোলটা কেউ যদি ভাল করে দেখে থাকেন, তা হলেই বুঝতে পারবেন দলের প্রতি রোনাল্ডোর কতটা দায়বদ্ধতা। পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে পর্তুগালের পেদ্রো নেতোকে ফাউল করে ওদিলদজ়ন খামরোবেকোভ। উজ়বেকিস্তানের ফুটবলারদের মতো আমিও ভেবেছিলাম রোনাল্ডোই ফ্রি-কিক নেবে। কারণ, পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে ওই জায়গা থেকে ফ্রি-কিকে অসংখ্য গোল করেছে সি আর সেভেন। রোনাল্ডো কিন্তু বল মারল না। ছেড়ে দিল মেন্দেসের জন্য। বাঁ-পায়ের নিচু শটে ২-০ করল প্যারিস সঁ জরমঁ তারকা। এই গোলটা থেকেই পর্তুগালের দলীয় সংহতির প্রমাণ পাওয়া যায়। ফুটবলারদের মধ্যে যদি বোঝাপড়াই না থাকে, এ ভাবে গোল করা সম্ভব হয় না। মিনিট তিনেকের মধ্যে আজ়িজ আনিয়েভ অসাধারণ গোলে ব্যবধান কমিয়েছিল। কিন্তু গোল করার আগে ও যে ডিফেন্ডার জোয়াও কানসেলোকে ফাউল করেছিল, রোনাল্ডোর নজর এড়ায়নি। রেফারির কাছে দৌড়ে গিয়ে গোল বাতিলের দাবি করে। শেষ পর্যন্ত ভিডিয়ো প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোল বাতিল করে দেন রেফারি। এটাই তো আদর্শ অধিনায়কের দায়িত্ব।
৩৯ মিনিটে ফের জ্বলে উঠল রোনাল্ডো। এ বার ব্রুনো ফের্নান্দেসের কাছ থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের নিখুঁত প্লেসিংয়ে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে দিয়ে টপকে গেল কিংবদন্তি পূর্বসূরি ইউসেবিয়োকে। পর্তুগালের জার্সিতে বিশ্বকাপে এত দিন সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ইউসেবিয়ো। তিনি করেছিলেন ন’টি গোল। মঙ্গলবার রোনাল্ডো করল দশম গোল। একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা ছ’টি বিশ্বকাপেই গোল করল সি আর সেভেন। এখানেই শেষ নয়, পিছনে ফেলে দিল মেসিকেও! বিশ্বকাপে সব চেয়ে বেশি বয়সি ফুটবলার হিসেবে এক ম্যাচে জোড়া গোলের নজির এখন রোনাল্ডোর দখলে। চব্বিশ ঘণ্টা আগে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি গোল করেছিল ৩৮ বছর ৩৬৩ দিন বয়সের মেসি। মঙ্গলবার রোনাল্ডো জোড়া গোল করল উজ়বেকিস্তানের বিপক্ষে ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে। অল্পের জন্য হ্যাটট্রিক হাতছাড়া করল রোনাল্ডো। ৬০ মিনিটে উজ়বেকিস্তানের নেমাতভের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান বাড়ায় পর্তুগাল। ৮৭ মিনিটে ৫-০ করে রাফায়েল লেয়াও।
পর্তুগালের ৫-০ জয়ের রাতে রোনাল্ডো প্রমাণ করল
প্রতিভাবানদের কাছে বয়স কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র।