ঝড়-বৃষ্টিতে কাবু শহর, ভেঙে পড়ল ৬০টি গাছ
নিজস্ব সংবাদদাতা
তীব্র ঝোড়ো হাওয়া। সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি। পর পর বজ্রপাত। সব মিলিয়ে নাস্তানাবুদ হল শহর কলকাতা। রাজ্যপালের বক্তৃতার উপরে আলোচনার সময়ে মঙ্গলবার বিকেলে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘কিছু ক্ষণ আগে কলকাতায় ঝড়ে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসন দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি দেখছে।’’
এ দিন ঝড়-বৃষ্টির দাপটে কলকাতায় ৬০টিরও বেশি গাছ ভেঙে পড়েছে বলে কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর। অধিকাংশই মধ্য কলকাতায়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হয়। তার জেরেই এ দিন দুপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়।
দক্ষিণের তুলনায় উত্তর কলকাতায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ওই অংশের বিভিন্ন রাস্তা দীর্ঘক্ষণ জলমগ্ন ছিল। উত্তর কলকাতায় এ দিন এক ঘণ্টায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে পুরসভার নিকাশি দফতর সূত্রের খবর। চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, কাশীপুর, বি টি রোড, এম জি রোড, আমহার্স্ট স্ট্রিট, সুকিয়া স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট ও ঠনঠনিয়া কালীমন্দির সংলগ্ন রাস্তা দীর্ঘক্ষণ জলে ডুবে ছিল। কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের আধিকারিকেরা জানান, ঠনঠনিয়া কালীমন্দিরের সামনে নতুন নিকাশি পাম্পিং স্টেশনের কাজ চলছে। যার ফলে ওই এলাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে জল জমে থাকছে। তা সত্ত্বেও জমা জল সরাতে পুরসভার তরফে একাধিক পাম্প কাজ করছে। পুরসভার তরফে দাবি করা হয়েছে, ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলেই শহরে জল জমবে।
দক্ষিণের পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট, এক্সাইড মোড়, রবীন্দ্র সদনের সামনের অংশও বেশ কিছু ক্ষণ জলমগ্ন ছিল। কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, এ দিন দুপুর পৌনে ৩টে নাগাদ প্রবল ঝড়-বৃষ্টির জেরে এক্সাইড মোড়ে একাধিক গাড়ি, বাসের উপরে গাছ ভেঙে পড়ে। গাছ ভেঙে পড়ে পার্ক স্ট্রিটেও। ঝড়ের দাপটে ডাফরিন রোডে ভেঙে যায় একটি অস্থায়ী মূর্তি। কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে বড় গাছ ভেঙে পড়ায় প্রেস ক্লাব ভবনের একাংশ সম্পূর্ণ তছনছ হয়ে যায়। হাই কোর্টের সামনে পার্কিংয়ে পর পর দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক গাড়ির উপরে গাছ পড়ায় বিপত্তি বাড়ে। মেয়ো রোডে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দোকান। মৌলালি-সহ নানা জায়গায় গাছ পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কেটে সরালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুরসভার উদ্যান বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, এক্সাইড মোড় থেকে শুরু করে বৌবাজার, মৌলালি, হাই কোর্ট পর্যন্ত এলাকায় ভেঙে পড়া গাছের সংখ্যা বেশি। এ দিন ঝড়ের দাপটও ওই এলাকায় বেশি ছিল বলে পুরসভা জানিয়েছে। রিভার ট্র্যাফিক বিভাগ সূত্রের খবর, বাজ পড়ে তাদের ফোন বিকল হয়ে গিয়েছে।
ঝড়ের প্রভাব পড়ে রেল চলাচলেও। শিয়ালদহ স্টেশনের উত্তর ও মেন শাখার মূল প্রবেশপথে রাখা একাধিক ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর উল্টে পড়ে। সঙ্গে লাগানো ব্যারিকেডও হাওয়ার দাপটে ছিটকে পড়ে। যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়ায়। দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির ঝাপটায় স্টেশনের প্রবেশপথেও জল এসে পড়ে। পরে রেলকর্মীরা তা পরিষ্কার করেন। ঝড়ের সময়ে চক্ররেলে দুপুর ২টো ২০ মিনিট নাগাদ মাঝেরহাট এবং বি বা দী বাগের মধ্যে পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় ওভারহেড কেব্ল এবং বিভিন্ন স্টেশনের ছাউনির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ ওই পথে ফের পরিষেবা শুরু হয়। তবে, ঝড়বৃষ্টির কারণে এ দিন শিয়ালদহ ডিভিশনের অন্যত্র ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়নি বলেই রেল সূত্রের খবর।