আলিপুরের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের ভিতর থেকে রহস্যজনক ভাবে উদ্ধার হল এক পুলিশকর্মীর মৃতদেহ। শনিবারের এই ঘটনায় দীপক তামাং নামে ৪৯ বছরের ওই পুলিশকর্মীকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। তবে পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ থেকে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, ওই পুলিশকর্মী আত্মঘাতী হয়েছেন। যদিও কেন এই পথ তিনি বেছে নিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তবে রাত পর্যন্ত কোনও তরফেই অভিযোগ জমা পড়েনি বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ জানায়, দীপকের বাড়ি কালিম্পংয়ের সাত মাইল এলাকায়। তিনি কলকাতা পুলিশের কমান্ডো ফোর্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর পদে ছিলেন। এ দিন সকাল ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ খবর পেয়ে আলিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের কমান্ডো ব্যারাকের চারতলায় শৌচাগারে দীপক আটকে রয়েছেন বলে জানা যায়। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল বলে পুলিশের দাবি। তাঁর সহকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে শৌচাগারের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। পুলিশ রিপোর্টে লিখেছে, শৌচাগারের পাইপের সঙ্গে বাঁধা গামছার ফাঁস গলায় লাগানো অবস্থায় ঝুলছিল দীপকের দেহ। গামছায় একটিই গিঁট দেওয়া ছিল। মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরিয়ে এসেছিল। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএমে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা জেনেছেন, কয়েক দিন ধরে দীপকের পরিবারে গন্ডগোল চলছিল। সেই সূত্রে অবসাদে ছিলেন তিনি। তার জেরেই আত্মহত্যা কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দীপকের পরিজনদের খবর দেওয়া হলে তাঁরা কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
আগেও একাধিক বার পুলিশকর্মীদের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি ছুটে প্রাণ যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের সামনে পুলিশকর্মীর গুলিতে একাধিক জনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সেই পুলিশকর্মীও আত্মঘাতী হন ঘটনাস্থলেই। এর পরে পুলিশের অবসাদ নিয়ে দীর্ঘ চর্চা হয়। কাজের সময়ের মধ্যে কী ভাবে নিজেদের ভাল রাখা যায়, পুলিশের অন্দরে তা নিয়ে একাধিক কর্মশালা হয়েছে। কাজের ধরন পর্যালোচনা করে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর বা এসওপি তৈরির কথাও বলা হয়। তবু এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। লালবাজার জানিয়েছে, পুরোটাই তদন্তের আওতায় রয়েছে। ময়না তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এলে আরও কয়েকটি দিক স্পষ্ট হবে।