‘পাহাড়ে দু’ঘণ্টা ধরে পালিয়েছি’
নিজস্ব সংবাদদাতা
গুয়াহাটি, ২৬ এপ্রিল: স্থানীয় আলোকচিত্রী তাঁর ছবি তুলে দিচ্ছিলেন। আলোকচিত্রীর দাবি মেনে কাশ্মীরের পহেলগামে বৈসরন উপত্যকার ঢালাও সবুজ গালিচায় বিভিন্ন ভঙ্গিমায় কখনও বসে, কখনও শুয়ে পোজ় দিতেই ব্যস্ত ছিলেন শিলংয়ের বাসিন্দা সুজ়ান ফারিশা সিয়েম। হঠাৎ চোখ যায় অদূরে গাছের তলায়। ঝোপের আড়ালে রাইফেল হাতে বসে আছে এক যুবক। চোখাচোখি হতেই ঝোপ থেকে বেরিয়ে আসে সে। চিত্রশিল্পীর দিকে রাইফেল তাক করে তাকে কলমা পড়তে বলে। স্থানীয় যুবক গড়গড়িয়ে কলমা পড়ে দেন। সুজানকে পাত্তা না দিয়েই রাইফেলধারী এগিয়ে যায়।
বৈসরণকাণ্ডের সাক্ষী শিলংয়ের সুজ়ান শুক্রবার বাড়ি ফিরেছেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘এক দম্পতির কাছে গিয়ে সে জিজ্ঞাসা করে যে তারা মুসলিম না হিন্দু। স্বামী নিজেকে হিন্দু বলতেই রাইফেলধারী যুবক তাঁর বুকে দু’বার গুলি করে দেয়। আমি এত রক্তদেখে আতঙ্কে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলাম। বন্দুকধারী অন্য এক জনের কপালে অস্ত্র তাক করলে চিত্রশিল্পী আমাদের চিৎকার করে পালাতে বলেন।” সুজ়ান জানান, পাহাড়ে দু’ঘণ্টা ধরে পালানোর পরে তাঁরা একটা গ্রাম দেখতে পান।
পহেলগামে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণে ‘শিলং সিটিজ়েন ফোরাম’ রবিবার খিন্দাই লাডে পুরনো বিধানসভা ভবনের সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শোক প্রকাশের জন্য সোমবার বৃহত্তর শিলং জুড়ে সমস্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখারও আহ্বান জানিয়েছে ফোরাম। এ দিকে, জঙ্গি হামলার পরে পাকিস্তানপন্থী মনোভাবের অভিযোগে অসমে আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানান, শ্রীভূমি জেলায় সাইকুট গ্রামের যুবক মহম্মদ মুস্তাক আহমেদ ওরফে সাহেলকে ফেসবুকে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ পোস্টের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোনাইয়ের রামনগর এলাকা থেকে ধরা হয়েছে বকতার হুসেন বরভুঁইঞা, শিলচর থেকে ইমরান হুসেন বরভুঁইঞাকে। কামরূপ জেলার হাজোতেও এক যুবককে পাকিস্তানপন্থী বিষয়বস্তু শেয়ার করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। হিমন্ত বলেন, “রাজ্য সরকার সমস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপরে কড়া নজর রাখছে।”
হিমন্ত ১৯৬০ সালে সিন্ধু জলচুক্তি স্বাক্ষরকে ‘ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুলগুলির মধ্যে একটি’ বলে দাবি করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, নেহরু আমেরিকান প্রশাসন এবং বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রচণ্ড চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ভারতের সিন্ধু অববাহিকার ৮০ শতাংশেরও বেশি জল পাকিস্তানকে হস্তান্তর করেছিলেন।