ফের দুর্বিপাকে
পর্যটকদের হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই। তার সঙ্গে এই জঙ্গিগোষ্ঠী এবং এদের পৃষ্ঠপোষকদের কঠিনতম শাস্তি দাবি করছি। তবে এটা বলতেই হবে এই পরিকল্পনার আঁচ করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে আমাদের দেশের গোয়েন্দা বিভাগ।
জঙ্গিরা বেশ কিছু দিন আগেই আস্তানা গড়েছিল, তার খবর রাখতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রের সরকার। মৌলবাদীদের পাতা ফাঁদে পড়তে চলেছে এ বার তারা। সন্ত্রাসের জন্য কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবসা বন্ধ হবে, সেখানে মানুষ অর্থনৈতিক দুর্দশায় পড়বেন। তখনই আবার মৌলবাদীরা নামমাত্র মাসোহারা দিয়ে যুবশক্তিকে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাতে উদ্বুদ্ধ করবে। পেটের টানে হয়তো তাঁদের অনেকেই সেই পথ বেছে নেবেন। আর তাতেই তাদের পৃষ্ঠপোষকদের উদ্দেশ্যটি সফল হবে।
আর ভারত যদি পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা চিন্তা করে, তাতেও ওই দেশটিরই সুবিধা হবে। দেশটি আরব ইরান-সহ অন্যান্য ইসলাম ধর্মাবলম্বী দেশের সহানুভূতি পাবে। আর রাষ্ট্রপুঞ্জে চিনের সমর্থন পেলে ভারতকে আক্রমণকারী দেশ বলে দাগিয়ে কড়া সমালোচনাও করবে। এর মধ্যে কি সহজ কোনও অঙ্কের ছবি দেখা যায় না? আর শান্তি রক্ষায় তখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের শরণ নিতে হলে? আমাদের দেশ কি তখন বিপাকে পড়বে না? এই সব কিছুর জন্য দায়ী কিন্তু ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির অকর্মণ্যতা, বিদেশ মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ব্যর্থতা।
বদ্রিনাথ দাস
কলকাতা-২৮
আত্মতুষ্টির ফল?
‘ভয়ঙ্কর’ (২৪-৪) শীর্ষক সম্পাদকীয়ের পর্যালোচনার সঙ্গে সহমত। ভূস্বর্গ স্বাভাবিক, সন্ত্রাসবাদীদের দমন করা হয়েছে— এই রকম বাণীতে আশ্বস্ত হয়েই গত তিন-চার বছর দেশ তথা বিদেশের মানুষ আবার নতুন করে কাশ্মীরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কী ভয়ঙ্কর এক আঘাতে সব স্তব্ধ হয়ে গেল!
২০২২ সালের কাশ্মীর পর্যটনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি কিছু দূর অন্তর সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ও তৎপরতা! এ বারে এত বড় কাণ্ড ঘটানোর সুযোগ কী ভাবে পেল সন্ত্রাসবাদীরা? রাজ্য বা কেন্দ্র কারও কাছেই কি আগাম বার্তা ছিল না? এ কি ব্যর্থতা না কি আত্মতুষ্টি? যার ফল ভোগ করতে হল সাধারণ মানুষদের!
যাঁদের সংসার তছনছ হয়ে গেল, তাঁদের কী দোষ ছিল? স্বজনহারা প্রত্যেক পরিবারের সঙ্গে সারা দেশবাসী সমব্যথী, ক্ষমাপ্রার্থী। আগামী দিনে যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে, প্রশাসনের কাছে তার দাবি তুলছি।
সুকুমার মুখোপাধ্যায়
কলকাতা-১৪৯
সুযোগসন্ধানী
ভূস্বর্গে জঙ্গি হানার পরপরই পর্যটকরা উপত্যকা ছাড়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তখনই আচমকা পাল্লা দিয়ে ঊর্ধ্বগামী হল ফেরার বিমানের ভাড়া। বেসরকারি সংস্থা শ্রীনগর থেকে কলকাতা বিমানে নিয়ে যেতে ভাড়া হেঁকেছে ১৫ থেকে ২৬ হাজার! একেবারে মওকা বুঝে কোপ। দেশ যেখানে বিপন্ন, সহনাগরিকরা আক্রান্ত ও মৃত, সেখানে কি এই বেসরকারি সংস্থাগুলোর তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কোনও দায় নেই?
যে মানুষগুলো প্রাণভয়ে কাঁপছেন, তাঁদের থেকে এ রকম ভাড়া দাবি করে কী ভাবে! এই নিপীড়নও কি সন্ত্রাস নয়? শুধুমাত্র বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণ করতে বলাই নয়, পর্যটকদের নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা করাও সরকারেরই দায়িত্ব।
অরিত্র মুখোপাধ্যায়
শ্রীরামপুর, হুগলি