বকেয়া ডিএ: লিখিত রায় প্রকাশ
জুনের মধ্যে দিতে হবে ২৫ শতাংশ
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি ও কলকাতা, ১৭ মে: জুন মাসের মধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগীরা এক থোক টাকা হাতে পেতে চলেছেন। কারণ, ছয় সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বাবদ বকেয়ার ২৫ শতাংশ সরকারি কর্মচারীদের মিটিয়ে দিতে হবে বলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবারই নির্দেশ দিয়েছিল, কেন্দ্রের ডিএ এবং রাজ্যের ডিএ-র হারের মধ্যে ফারাকের ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যে পাওনা বকেয়া রয়েছে, তার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু কত দিনের মধ্যে তা মেটাতে হবে, নির্দেশ দেওয়ার সময় বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ তা স্পষ্ট করেনি। ফলে আইনজীবীদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, যেহেতু ২০২২-এ কলকাতা হাই কোর্ট তার রায়ে তিন মাসের মধ্যে বকেয়া মেটানোর কথা বলেছিল, এ ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার তিন মাস সময় পাবে। কিছু আইনজীবীর মত ছিল, যেহেতু অগস্ট মাসে এ বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি হবে বলে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তাই তার আগে বকেয়ার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে।
আজ সুপ্রিম কোর্টের লিখিত রায় প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ছয় সপ্তাহের মধ্যে ডিএ বাবদ বকেয়ার ‘অন্তত’ ২৫ শতাংশ রাজ্য কর্মচারীদের দিয়ে দিতে হবে। আগামী ৪ অগস্ট ফের এই মামলার শুনানি হবে। সরকারি ভাবে গোটা বিষয়ে শনিবারও মুখ খুলতে চায়নি প্রশাসনের শীর্ষমহল। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানাচ্ছে, রায়ের প্রতিলিপি পৌঁছেছে তাদের কাছে। গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখবে রাজ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অনুমান, এ ক্ষেত্রে বিকল্প পথের খোঁজে আইনি পরামর্শও নেওয়া
হতে পারে।
তবে রাজ্য সরকারের আর একটি সূত্রের দাবি, এক দিক থেকে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে সামান্য হলেও স্বস্তি দিয়েছে। কারণ, বকেয়ার প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা একবারে মেটাতে হচ্ছে না সরকারকে। আপাতত ২৫% বা প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া মেটাতে ছ’সপ্তাহ সময় দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। চলতি আর্থিক বছরে (২০২৫-২৬) প্রায় ৩.৮৯ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে রাজ্য। ফলে মোট বাজেটের তুলনায় এই টাকার পরিমাণ তেমন কিছু নয়। পাশাপাশি, সেই টাকা জোগাড় করার জন্য কিছু সময় হাতে থাকবে নবান্নের।
রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দিয়েছিল, ডিএ বাবদ বকেয়া মেটাতে গেলে আর্থিক বোঝার চাপে রাজ্যের কোমর ভেঙে যাবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের লিখিত রায়ে বলা হয়েছে, ‘রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও কলকাতা হাই কোর্ট, দু’জায়গাতেই রাজ্যের তহবিলে অর্থের অভাবের যুক্তি খারিজ হয়ে গিয়েছিল।’ রায়ে বলা হয়েছে, ‘ট্রাইব্যুনাল ও হাই কোর্ট পঞ্চম বেতন কমিশন অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা কর্মচারীদের অধিকারের মধ্যে পড়ে কি না, তা নিয়ে বিচার করেছিল। মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার অধিকার সংবিধানের মৌলিক অধিকারের মধ্যে