ববির ‘নাটক’ তোপ, পাল্টা চাকরিহারার
নিজস্ব প্রতিবেদন
বিকাশ ভবনের সামনে চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের টানা আন্দোলন চলছে। সেখানে পুলিশের হামলায় আন্দোলনকারীদের অনেকেই আক্রান্তও হয়েছেন বলে অভিযোগ। এই গোটা আন্দোলনকেই শনিবার ‘নাটক’ বলে উল্লেখ করে সরব হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (ববি)! এই প্রেক্ষিতে ‘নারদ-কাণ্ডে’র কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পাল্টা ফিরহাদকে বিঁধেছেন আন্দোলনকারীরা। ফিরহাদ-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব এবং রাজ্য সরকারকে এক যোগে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। গোটা ঘটনাপ্রবাহে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সম্পূর্ণ নীরবতাও প্রশ্ন জাগিয়েছে।
বিকাশ ভবনের সামনে এ দিন আইএনটিইউসি এক জনকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাজিয়ে নিয়ে গিয়ে পুলিশকে ফুল দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ ফুল নেয়নি। ‘কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি’ রবীন্দ্রনাথের হাত থেকে ‘লেঠেল বাহিনী’ ফুল নিতে অস্বীকার করল, এই মর্মে সরব হয়েছেন দলের নেতৃত্ব। এই সূত্রেই নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে মন্ত্রী ফিরহাদ এ দিন শিক্ষক আন্দোলন সম্পর্কে বলেছেন, “নাটক হচ্ছে। বিকাশ ভবনে আন্দোলন করে সুপ্রিম কোর্টের বিচার মেলে না। কয়েক জন টেলিভিশনে মুখ দেখাতে বসে আছেন। সেই সময়ের যোগ্যেরা বেশির ভাগই চলে গিয়েছেন! যাঁরা বিপদে ফেলেছিলেন, তাঁরাই এখন প্ররোচনা দিচ্ছেন।” কার্যত একই সুরে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও। তাঁরও বক্তব্য, “স্থায়ী সমাধানের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে ক্যামেরায় ছবি তুলতে বিক্ষোভ করলে কিছু বলার নেই! কোথায় ক্যামেরা আছে, কোন দিক থেকে আলো আসছে, সেই সব বুঝে হাত-পা ছোড়া!” তাঁর সংযোজন, “একটা স্বস্তি দিচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এই অশান্তি যেন সুপ্রিম কোর্টে এমন ভাবে না পৌঁছয় যাতে সেই স্বস্তির জায়গাটা বন্ধ হয়ে যায়!”
ফিরহাদদের এই বক্তব্যের পরেই ২০১৬-র নারদ-কাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ফিরহাদ যে ওই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত, তা মনে করিয়ে দিয়ে আন্দোলনকারীদের তরফে মেহেবুব মণ্ডল বলেছেন, “জনপ্রতিনিধি কাগজে মুড়ে টাকা নিচ্ছেন— এটা যদি নাটক না হয়ে বাস্তব হয়, তা হলে আমাদের এই প্রতিবাদ অবশ্যই নাটক।” সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ফের সমাধানসূত্র বার করার দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি, তাঁদের সঙ্গে এক বার বৈঠকের পরে আর শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু দেখা করেননি, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মেহেবুব (শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে ইনিই সামনে উঠে এসেছেন)। প্রসঙ্গত, এ দিন ব্রাত্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি উত্তর দেননি। তবে সেনাবাহিনীকে কুর্নিশ জানিয়ে এ দিন