এগিয়েই থাকবে ভারত: পূর্ণম
প্রকাশ পাল সুদীপ দাস
রিষড়া: জাতীয় পতাকা হাতে তাঁর আট বছরের ছেলে শুক্রবার বিকেল থেকে ঘন ঘন পাড়ার মন্দিরের সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছিল। কখন বাবা আসবে!
সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ হুগলির রিষড়ায়, নিজের এলাকায় ফিরলেন তিনি— পাকিস্তানে ২১ দিন বন্দি থাকা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জওয়ান পূর্ণমকুমার সাউ। ফিরলেন বন্দি হওয়ার ঠিক এক মাসের মাথায়। জাতীয় পতাকা, ফুল-মালা, ব্যান্ডে তাঁকে বরণ করল জনতা। দিনের পর দিন পাকিস্তানের শিবিরে কাটালেও ডরাননি। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে দৃপ্ত কণ্ঠে পূর্ণম জানিয়ে দেন, জওয়ানদের ভয় পেতে নেই।
সকালে পূর্ণমের বাড়ি ফেরার খবর চাউর হতেই বদলে যেতে থাকে রিষড়ার হরিসভা লাগোয়া তাঁদের নিস্তরঙ্গ পাড়ার চেহারা। বাড়িতে আলপনা দেওয়া হয়। কেক আনা হয়। স্ত্রী রজনী বলেন, ‘‘খুবই ভাল লাগছে।’’ মা দেবন্তী দেবী বলেন, ‘‘আজকের দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলাম। আজ আমরা খুব খুশি। ছেলেকে পছন্দসই খাবার খাওয়াব।’’ বিকেল হতেই হরিসভা মন্দিরের মাথায় লাগানো মাইকে বেজে ওঠে দেশাত্মবোধক গান।
বাবা ভোলানাথ সাউ-সহ পরিজনেরা এবং রিষড়ার পুরপ্রধান বিজয়সাগর মিশ্র পূর্ণমকে আনতে হাওড়া স্টেশনে যান। তাঁকে অভিনন্দন জানাতে সেখানেও পৌঁছন বহু মানুষ। বিকেল ৫টার কিছু ক্ষণ পরেই ডাউন পূর্বা এক্সপ্রেস থেকে গলায় মালা এবং মুখে মাস্ক পরা পূর্ণম স্টেশনে নামতেই উৎসব শুরু হয়ে যায়। ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন ভোলানাথ। পূর্ণমের গায়ে জড়িয়ে দেওয়া হয় জাতীয় পতাকা। গাড়িতে ফেরার সময় সালকিয়ায় একটি মিষ্টির দোকানে সবাই মিষ্টিমুখ করেন।
পূর্ণম বলেন, ‘‘নিজের দেশে ফিরে, বাবা-মায়ের কাছে ফিরে আমি খুব খুশি। দেশে ফিরে মনে হচ্ছে, দ্বিতীয় বার জন্ম হয়েছে।’’