এগিয়েই থাকবে ভারত
সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ গাড়িতে শহরের বাগখালে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে মাতামাতি শুরু হয়ে যায়। পথের দু’ধারে বহু মানুষ দাঁড়িয়ে পড়েন। ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে হুডখোলা গাড়িতে চাপিয়ে তাঁকে বাড়ির পথে নিয়ে আসা হয় বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে। তাঁর নামে জয়ধ্বনি ওঠে। আপ্লুত দেখায় জওয়ানকে। পাশে ছিলেন চাঁপদানির বিধায়ক অরিন্দম গুঁইন, রিষড়ার পুরপ্রধান বিজয়সাগর মিশ্র, উপ-পুরপ্রধান জাহিদ হাসান
খানেরা।
তবে বিজেপির কাউকে দেখা যায়নি। দলের শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুমন ঘোষ জানান, আজ, শনিবার তাঁরা বাড়িতে গিয়ে পূর্ণমকে সংবর্ধনা দেবেন।
রাত ৯টা নাগাদ পূর্ণমের গাড়ি এসে পৌঁছয় বাড়ির কাছে, হরিসভার সামনে। মন্দিরে প্রণাম সেরে বাড়ির পথে এগোন পূর্ণম। পাশে ছিলেন বাবা। পূর্ণমকে বরণ করেন মা এবং স্ত্রী। সন্দেশ খাওয়ানো হয়। স্বামীকে দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলেন রজনী। ঘরের মেঝে ছুঁয়ে প্রণাম করে ভিতরে ঢুকে যান পূর্ণম। পরে পূর্ণম সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মা-বাবা অসুস্থ। সকলেই আমার জন্য চিন্তা করেছেন। অপারেশন সিঁদুরের পরে চিন্তা আরও বেড়েছে। তাই সকলের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।’’
বাড়ির লোকেরা জানান, গত মার্চে ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন পূর্ণম। ৩১ মার্চ কর্মস্থল, পঞ্জাবের পঠানকোটের ফিরোজপুরে ফেরেন। অর্থাৎ, দু’মাসের ব্যবধানে তিনি বাড়ি ফিরলেন। কিন্তু এই প্রত্যাবর্তনের আবহ একেবারেই আলাদা! ভোলানাথ বলেন, ‘‘ছেলে ঘরে ফেরায় আমরা তো আনন্দিত বটেই। মানুষ এক জন জওয়ানকে কতটা ভালবাসেন, সম্মান করেন, আজ বুঝতে পারলাম।’’
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের বৈসরনে জঙ্গি হানার পরের দিনই দুপুরে কর্মরত অবস্থায় ভুল করে পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে পড়েছিলেন পূর্ণম। পাকিস্তানি রেঞ্জার্স তাঁকে বন্দি করে। সংঘর্ষ বিরতির পরে গত ১৪ জুন মুক্তি পান পূর্ণম। দেশে ফেরার পর থেকে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা চলছিল বিএসএফ শিবিরে।
এ বার তিনি নিজের ঘরে। উৎসবের আবহে ফিরে পূর্ণম জানিয়ে দেন, ‘ভারত আগে থা, আগে রহেগা’ (ভারত এগিয়ে ছিল, এগিয়ে থাকবে)।