হাই কোর্টের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা মহিলার
নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা হাই কোর্টের গেট নম্বর ‘ই’। মঙ্গলবার, সকাল ১০টা। প্রতিদিনের মতো আদালত চত্বরে তখন অনেকের ভিড়। এরই মধ্যে হঠাৎ সালোয়ার কামিজ পরা বছর পঁয়ত্রিশের এক মহিলা সেখানে এসে নিজের গায়ে কেরোসিন তেল ঢালতে থাকেন। মহিলার আচরণ দেখে ঘাবড়ে যান অনেকেই। কয়েক জন তাঁর কাছে ছুটে আসেন। মহিলা নিজের গায়ে আগুন দেওয়ার আগেই নিরস্ত করা হয় তাঁকে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে। এর পরে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে মহিলাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলা গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দা ওই মহিলা স্থানীয় একটি সমবায় সমিতির সদস্য ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই সমবায় সমিতিতে টাকা জমিয়েও তা ফেরত পাচ্ছেন না। এ দিন সকালে তিনি ওই সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁর অভিযোগ, সমবায় সমিতির ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন হাই কোর্টে বিচারাধীন। হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা না হওয়ায় এ দিন ওই মহিলা হাই কোর্টের গেটের সামনে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁর বয়ান লিপিবদ্ধ করে তদন্ত শুরু করেছে।
এ দিন সকালে হাই কোর্টের ওই গেটের সামনে গিয়ে দেখা গেল, ওই মহিলা যেখানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, সেই জায়গাটি জল দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে। উপস্থিত লোকজন জানান, ওই মহিলা গায়ে কেরোসিন তেল ঢালতেই তাঁকে গিয়ে নিরস্ত করা হয়। এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, সেখানকার মেডিসিন বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে মহিলাকে হাসপাতালের পুলিশ আউটপোস্ট লাগোয়া ওসি-র ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের ডিসি (মধ্য) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।