পুলিশকে ‘কুকথা’ শুভেন্দুর, প্রতিবাদে পুলিশের পরিজন
নিজস্ব সংবাদদাতা
নবান্ন অভিযানে পুলিশের উদ্দেশে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কুকথার প্রতিবাদ জানাতে এসে অনুব্রত মণ্ডল সংক্রান্ত প্রশ্নে মেজাজ হারালেন রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশের কর্মীদের পরিজন। হই-হট্টগোলের জেরে কার্যত প্রশ্নের উত্তর না-দিয়ে সাংবাদিক বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান তাঁরা। প্রসঙ্গত, আর জি করের নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ডাকে নবান্ন অভিযান ঘিরে শনিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পার্ক স্ট্রিট। অভিযানে যোগ দেওয়া বিরোধী দলনেতাকে পার্ক স্ট্রিটে আটকানো হলে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, শুভেন্দু কলকাতার নগরপাল মনোজ বর্মা এবং অন্যান্য পুলিশকর্মীর উদ্দেশে কুমন্তব্য করেন। পুলিশকে পাল্টা মারধরের অভিযোগ ওঠে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেও।
শুভেন্দুর কুকথার প্রতিবাদ জানাতেই মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন পুলিশকর্মীদের স্ত্রী-পরিজন। শুভেন্দুর বক্তব্যের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি পুলিশকে মারধরে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিও করেছেন তাঁরা। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত সালমা সুলতানা জানান, পুলিশকে প্রতিনিয়ত অপমান করা হচ্ছে। নগরপালকে আক্রমণ করা হচ্ছে। বারবার বিরোধী দলনেতা পুলিশ প্রশাসনকে অপমান করছেন। তিনি বলেন, ‘‘যে ভাবে পুলিশকে আক্রমণ করা হচ্ছে তাতে আমরা, পরিবারের সদস্যেরাও আতঙ্কিত।’’
প্রসঙ্গত, পুলিশকে শারীরিক আক্রমণ, নিগ্রহ, গালিগালাজ রাজ্যে নতুন ঘটনা নয়। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ যেমন আছে, তেমনই দেড় দশকে পুলিশকে হেনস্থার অভিযোগ বারবার উঠেছে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও। তার মধ্যে বীরভূমে শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমায় যেমন পুলিশ অফিসারের মৃত্যুর অভিযোগ আছে, তেমনই খাস কলকাতার আলিপুর থানায় শাসক দলের কর্মী-সমর্থকদের হামলায় পুলিশের টেবিলের তলায় লুকোনোর ছবিও আমজনতা দেখেছে। সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে বোলপুরের আইসিকে ফোনে হুমকি এবং স্ত্রী-মাকে কুৎসিত গালিগালাজের অভিযোগও। এ দিন নবান্ন অভিযানে শুভেন্দুর কুকথার প্রতিবাদ করার সময়ে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের হামলার প্রতিবাদ বা সাংবাদিক বৈঠক কেন দেখা যায় না, সেই প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই উঠেছিল।
এ দিন অবশ্য সেই প্রশ্নের উত্তর কার্যত এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত পুলিশকর্মীদের পরিজন। সালমা বলেন, ‘‘অনুব্রতের কুকথার ঘটনায় পুলিশে অভিযোগও হয়েছে। পুলিশ তার তদন্ত করছে। আমরাও কসবা থানায় আমাদের প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমরা পুলিশের তদন্তে খুশি।’’ এ কথায় অবশ্য সংবাদমাধ্যমের একাংশ পাল্টা প্রশ্ন করায় সাংবাদিক বৈঠক শেষ করে কার্যত বেরিয়ে যান সালমারা। পরে একটি
মিছিলও করেন।
এ দিন পুলিশকর্মীদের পরিজনের সাংবাদিক বৈঠকের পরে অনেকের প্রশ্ন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা কুকথা বলেছেন বলেই কি পথে নেমে প্রতিবাদ? কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, এই সাংবাদিক বৈঠকের কি অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে? যদিও পুলিশকর্মীদের পরিজনের ‘অনুরোধ’, তাঁদের প্রতিবাদ যেন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিচার না-করা হয়।