মারের অভিযোগ করতে গিয়েও ‘হেনস্থা’
ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।’’ এরপরেই নির্যাতিতার পরিবার পুলিশে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্যাতিতার বাবার দাবি, কোথায় অভিযোগ জমা করতে হবে সে ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করলে নিউ মার্কেট থানা থেকে এক অফিসার তাঁকে ফোন করে শেক্সপিয়র সরণি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে বলেন। তবে শেক্সপিয়র সরণি থানায় যোগাযোগ করলে এক অফিসার তাঁকে ই-মেলে জানান, ঘটনাস্থল পার্ক স্ট্রিট থানার অন্তর্গত। ফলে সেখানে গিয়ে অভিযোগ করতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও একটি মেল পাঠিয়ে ওই অফিসার জানান, নির্যাতিতার বাবাকে নিউ মার্কেট থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে হবে। নিউ মার্কেট থানা আবার তাঁকে শেক্সপিয়র সরণি থানায় যেতে বলে। এতেই বিভ্রান্ত মৃতার বাবা কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে মেল করে জ়িরো এফআইআর দায়েরের অনুরোধ জানান।
নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘‘পুলিশ এফআইআর নিচ্ছে না। কোন থানা অভিযোগ নেবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হচ্ছি। দেখি পুলিশ মেলের কী উত্তর দেয়! যে থানায় অভিযোগ দায়ের হবে, সেখানে গিয়ে এফআইআরের কপি নিয়ে আসব।’’
বিকেলে এ নিয়ে লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠক করেন যুগ্ম কমিশনার (সদর) মিরাজ খালিদ। সেখানে গত ৯ অগস্ট নবান্ন অভিযানের দিনের পুলিশের মার খাওয়ার একাধিক ভিডিয়ো দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘‘নবান্ন অভিযান নামের ওই কর্মসূচির কোনও অনুমতি পুলিশের থেকে নেওয়া হয়নি। পুলিশকর্মীদের রাস্তায় ফেলে মারা হয়েছে। সেই ফুটেজ ধরা পড়েছে। কিন্তু নির্যাতিতার মাকে মারার কোনও ফুটেজ এখনও আমরা পাইনি। যদি কারও কাছে এমন ফুটেজ থাকে, তাহলে দিন। তদন্ত করে দেখা হবে।’’ জানতে চাওয়া হয়, মৃতার মাকে যে মারার অভিযোগ করেছে পরিবার, সে নিয়ে পুলিশ আলাদা কোনও এফআইআর করেছে কি?
মিরাজ জানান, ঘটনার পরেই কলকাতা পুলিশ এলাকায় ছ’টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে। নিউ মার্কেট থানায় জেনারেল ডায়েরি করা হলেও নতুন করে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আর কোনও এফআইআর করা হয়নি। এর পরেই পুলিশ জানায়, নবান্ন অভিযানের ঘটনায় নিউ মার্কেট থানা, হেয়ার স্ট্রিট থানা মিলিয়ে মোট ছ’জনকে তলব করা হয়েছে। প্রত্যেকেই বিজেপি-র সঙ্গে যুক্ত। এঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরাসরি পুলিশকে মারার হুমকি দেওয়ারও ভিডিয়ো রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। যদিও রাজ্যের বিরোধী দলনেতার পুলিশ কমিশনারকে করা একটি মন্তব্য নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সে নিয়ে এখনও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি পুলিশের তরফে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য বলেছেন, ‘‘পুলিশের বিরুদ্ধেই তো মামলা হওয়া উচিত।’’ আর তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানান, নির্যাতিতার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও তিনি আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। কারণ, কুণালের কথায়, বাবা অভিযোগ করেছিলেন, তিনি (কুণাল) সিজিও-তে গিয়ে তদন্ত ‘সেটল’ করেছেন।