নাম বাদ, অথচ নয়া কার্ড, জানেন না ভোটারই
করবে কংগ্রেস। ২২ অগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব রাজ্যে ‘ভোট চোর, গদি ছাড়ো’ স্লোগানে
জনসভা হবে।
গত ১ অগস্ট বিশেষ ভোটার তালিকা পরিমার্জনের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। তাতে দেখা
যায়, বিহারের প্রায় ৭.৯ কোটি ভোটারের মধ্যে ৬৫ লক্ষের বেশি
নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এরপরে কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারের উদ্যোগে
বিহারের বেগুসরাই জেলাতে সমীক্ষা চালানো হয়।
কলকাতা থেকে অর্থনীতির গবেষক প্রসেনজিৎ বসু সেই সমীক্ষায় কাজ করেছিলেন। সমীক্ষায় দেখা যায়, বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে এমন অনেক ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে, যাঁদের নামে নতুন ভোটার কার্ড তৈরি হয়েছে। অথচ ভোটাররাই সে কথা জানেন না। খসড়া
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে কেউ তা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে, নিজেকে খাঁটি ভোটার দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে
নির্বাচন কমিশনের ফর্ম-৭ পূরণ করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাঁদের নতুন ভোটার হিসেবে নাম তালিকাভুক্ত করার জন্য ফর্ম-৬ জমা করতে বলেছে বলে অভিযোগ
করেছে ‘ইন্ডিয়া’।
এ ছাড়া, বিরোধী জোটের অভিযোগ, ভোটার তালিকা পরিমার্জনের সময় বহু গণনাপত্রে দেখা গিয়েছে, বিএলও বা বুথ স্তরের অফিসাররা ভোটারদের ফর্মে ‘নট রেকমেনডেড’ লিখে দিয়েছেন। কিন্তু তার কোনও কারণ দেখানো হয়নি। সোমবার ‘ইন্ডিয়া’র নেতারা বেগুসরাইয়ের জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিকের
কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তাতে এই অভিযোগও তোলা
হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ৬৫
লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে বলে জানিয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেই সব নামের তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে ভোটারদের পক্ষে তাঁদের অবস্থান জানা কঠিন হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমার বলেন, ‘‘গণতন্ত্রের যে কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে, তা এখন স্পষ্ট।’’
আজ সুপ্রিম কোর্টে ভোটার তালিকা পরিমার্জনের বিরুদ্ধে মামলাকারী সংগঠন এডিআর-এর আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ
প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁর নাম এত দিন ভোটার তালিকায় ছিল, তাঁকে কেন নতুন ভোটার হিসেবে নাম তুলতে হবে? কীসের ভিত্তিতে বিএলও-দের ‘নট রেকমেনডেড’ লেখার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে? তিনি বলেন, ‘‘যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, সেই তালিকা রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া হয়েছে। কারও নাম বাদ পড়লে তাঁকে কেন তালিকা দেখতে দলের কাছে যেতে হবে?’’