পথকুকুর-রায় ঘিরে শুরু বিতর্ক
নয়াদিল্লি, ১২ অগস্ট: দিল্লি ও সংলগ্ন শহরগুলি থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পরের দিনই নতুন আদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত আজ একটি নোটিস জারি করে বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের চৌহদ্দির ভিতরে পথকুকুরদের আনাগোনা যেহেতু বেড়ে গিয়েছে, তাই যত্রতত্র খাবার ফেলা চলবে না। খাবার ফেলতে হবে ঢাকা ডাস্টবিনে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং কুকুরের কামড়ের থেকে বাঁচতে এই ব্যবস্থা চালু করার যুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে পথকুকুরদের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে সুপ্রিম কোর্টের রায় কতখানি বাস্তবায়িত করা যাবে— তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তেমনি বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা, মেনকা গান্ধী থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের অনেকেই।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, পথকুকুররা এমন সমস্যা নয় যে তাদের মুছে দিতে হবে। নিষ্ঠুরতা ছাড়াই সামাজিক ভাবে এই সমস্যা সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। অভিনেতা জন আব্রাহাম রায় পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের কাছে চিঠি লিখেছেন। অভিনেত্রী জাহ্নবী কপূরও সমাজমাধ্যমে শীর্ষ আদালতের রায় নিয়ে মুখ খুলেছেন। আর প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মেনকা গান্ধী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে ‘অবাস্তব, অর্থনৈতিক ভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যের বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, পথকুকুরদের দিল্লি থেকে সরিয়ে দিলে নতুন সমস্যা হতে পারে। মেনকার কথায়, ‘‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাজ়িয়াবাদ, ফরিদাবাদ থেকে তিন লক্ষ কুকুর চলে আসবে। কারণ, দিল্লিতে খাবার রয়েছে। আর যখনই কুকুরদের সরিয়ে দেওয়া হবে, বাঁদরেরা মাটিতে নেমে আসবে।’’ ১৮৮০ সালে প্যারিসের উদাহরণ টেনে মেনকা বলেছেন, ‘‘তারা যখন শহর থেকে কুকুর, বিড়ালদের উৎখাত করেছিল, শহরে ইঁদুরে ভরে গিয়েছিল।’’ ১৮৮০ সালে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির দিকে তাকিয়ে ফ্রান্সের রাজধানীতে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো অসংখ্য কুকুর, বিড়াল মেরে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, এই সব পশুর অনুপস্থিতিতে শহরে ইঁদুরের সংখ্যা বেড়ে যায়। নর্দমা থেকে বাড়ির ভিতরে ঢুকে আসে ইঁদুরেরা। মানেকা সেই উদাহরণই টেনেছেন।
প্রশ্ন উঠেছে কুকুর ও আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা নিয়েও। ২০০৯ সালের গণনায় দিল্লিতে কুকুরদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লক্ষ ৬০ হাজার। তবে গত ১৬ বছরে কোনও গণনা হয়নি। দিল্লিতে এখন প্রায় ১০ লক্ষ পথকুকুর রয়েছে বলে মনে করা হয়। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫০০ করে কুকুর রাখা হলেও দু’হাজার আশ্রয়কেন্দ্রের দরকার। এই সময়ে দিল্লি পুরসভার মাত্র ২০টি পশু নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র রয়েছে। এই এত সংখ্যায় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, তার খরচ, আশ্রয়কেন্দ্রে খাবারের খরচ— এ সব প্রশ্ন উঠতে শুরু
করছে। সংবাদ সংস্থা