হাজির ‘মৃত’ ভোটার
অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আজ সুপ্রিম কোর্টে বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশন কারও নাগরিকত্ব যাচাই করতে পারে না। অথচ বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সেটাই করছে। বিচারপতিদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন বিহারের ভোটার তালিকা থেকে যাঁরা দেশের নাগরিক নন, তাঁদের বাদ দিতে পারে। দেশের নাগরিকদের ভোটার তালিকায় যোগ করতে পারে। যদিও নাগরিকত্বের বিষয়টি সংসদের এক্তিয়ারের
মধ্যে পড়ে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, আজ সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে লিখিত ভাবে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নাগরিকত্ব প্রমাণের উপযুক্ত নথি কী? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তার নির্দিষ্ট উত্তর দেয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব আজ সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতিদের সামনে অভিযোগ তুলেছেন, বিহারে ২২ নভেম্বরের মধ্যে নতুন বিধানসভা গঠন করতে হবে। তার আগে ভোট ঘোষণা হবে। পাঁচ বছর আগের বিধানসভা ভোটের সময়সূচি অনুযায়ী চললে ৩০ সেপ্টেম্বরের পরে আর বিহারের ভোটার তালিকায় কোনও রদবদল হবে না। নির্বাচন কমিশন ২৫ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। তখন কোনও প্রার্থীর ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে আবেদন করার সময় কোথায় পাবেন? বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছেন, ‘‘যদি নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ থাকে, তা হলে কি সেপ্টেম্বর মাসেও গোটা ভোটার তালিকা পরিমার্জন প্রক্রিয়া খারিজ করে দিতে পারি না?”
যোগেন্দ্র যাদব বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমান অনুযায়ী, বিহারে ১৮ বছরের বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা ৮ কোটি ১৮ লক্ষ। বিহারের ভোটার তালিকায় এমনিতেই তার থেকে কম, ৭.৯ কোটি ভোটার ছিলেন। খসড়া তালিকায় তা ৭.২ কোটিতে নেমে এসেছে। ভারতে তো বটেই, পৃথিবীতে প্রথম এমন ভোটার তালিকায় পরিমার্জন হচ্ছে, যেখানে কোনও নতুন ভোটার যোগ হয়নি। শুধু ভোটাররা বাদ পড়েছেন। নাম বাদ পড়াদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা বেশি। ভারতে এত দিন পূর্ণবয়স্কদের ভোটার তালিকায় নাম তোলা সরকারের দায়িত্ব ছিল। এখন তা নাগরিকদের ঘাড়ে ঠেলে
দেওয়া হয়েছে।
মামলাকারীদের আইনজীবী কপিল সিব্বল অভিযোগ তুলেছেন, ‘‘ভোটার তালিকা থেকে মৃত, পাকাপাকি স্থানান্তরিত বা একাধিক জায়গায় নামের জন্য যে ৬৫ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের কারও ক্ষেত্রে কোনও তদন্ত হয়নি বা তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়নি। কমিশন নিজেই তা স্বীকার করেছে।’’ আর এক আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ অভিযোগ তোলেন, ৪ অগস্ট পর্যন্ত খসড়া ভোটার তালিকায় কম্পিউটারে ‘সার্চ’ করা যাচ্ছিল। তারপরে তা করা যাচ্ছে না। বুধবারও এই শুনানি চলবে।