আধার, প্যান, ভোটার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়: হাই কোর্ট
মুম্বই, ১২ অগস্ট: আধার, প্যান কার্ড কিংবা ভোটার পরিচয়পত্র রয়েছে বলেই কাউকে ভারতের নাগরিকের স্বীকৃতি দেওয়া যায় না— বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ধৃত এক ব্যক্তির জামিনের আর্জি খারিজ করে আজ এই মন্তব্য করেছে বম্বে হাই কোর্ট। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্নে ভারতের রাজনীতিতে এখন যে বিতর্ক চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে নাগরিকত্ব নিয়ে বম্বে হাই কোর্টের এই বক্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
মহারাষ্ট্রের ঠাণেতে বসবাসকারী বাবু আবদুল রউফ সরদার নামে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারই জামিনের আর্জি খারিজ করে বম্বে হাই কোর্ট এই মন্তব্য করেছে। পুলিশের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি বৈধ পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছেন। আর ভারতে এসে আধার, প্যান কার্ড এবং ভোটার পরিচয়পত্রের জাল নথি তৈরি করিয়েছেন। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন দাখিল করে সরদার অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি ভারতের নাগরিক এবং তিনি যে বাংলাদেশি এমন কোনও প্রামাণ্য নথিও নেই। সরদারের আরও দাবি, ২০১৩ সাল থেকে তিনি মহারাষ্ট্রের ঠাণে জেলায় বসবাস করছেন। এছাড়া, তাঁর কাছে ভারতের যে সব নথি রয়েছে তা আয়কর
বিভাগ এবং ব্যবসায়িক পঞ্জিকরণের সঙ্গে সংযুক্ত।
বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি অমিত বরকার এদিন ওই ব্যক্তির জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘‘আধার কার্ড, প্যান কার্ড কিংবা ভোটার পরিচয়পত্র রয়েছে বলেই কাউকে ভারতের নাগরিকের স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। কারও পরিচয় জানতে কিংবা পরিষেবা প্রদানের জন্য এই নথিগুলি তৈরি করা হয়। কিন্তু নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী ভারতের নাগরিকদের জন্য যে সব আইনি নথির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, এই সব নথি (প্যান, আধার, ভোটার পরিচয়পত্র) তাকে ছাপিয়ে যেতে পারে না।’’ বিচারপতি বলেন, ‘‘আমার মতে, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনটি আজও ভারতের নাগরিকদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে প্রধান একটি আইন। সেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে, ভারতের নাগরিক কারা, কী ভাবে ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা যায় কিংবা কোন পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব খারিজ করা যেতে পারে।’’ হাই কোর্টের মতে, নাগরিকত্ব আইন ভারতের বৈধ নাগরিক এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করেছে। বিচারপতির মতে, এই সীমারেখা থাকা জরুরি। কারণ, তা দেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করে এবং ভারতের প্রকৃত নাগরিকদের অধিকারকে নিশ্চিত করে। আর ভারতে থাকার অধিকার না থাকলেও যারা নাগরিকের মতো সুবিধা ভোগ করে চলেছেন, তাদেরও চিহ্নিত করা যায়।
সরদারের জামিনের বিরোধিতা করে সরকারি আইনজীবী বলেন, জামিন পেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যেতে পারেন। আদালতের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। পুলিশ মনে করছে, জামিন মিললে অভিযুক্ত পালিয়ে যেতে পারেন। তাদের এই উদ্বেগের কারণ রয়েছে। জামিনের আর্জি খারিজ করে কোর্ট আরও বলেছে, এই মামলায় কোনও ছোটখাটো অভিযোগ ওঠেনি। এটা অনুমতি ছাড়া ভারতে বেশিদিন থেকে যাওয়ার ব্যাপার নয়। বরং এখানে ভারতের নাগরিক হিসেবে বসবাসের জন্য ভুয়ো নথি তৈরির অভিযোগ জড়িয়ে রয়েছে।
সংবাদ সংস্থা