মাধ্যমিকের অ্যাডমিটও বৈধ না, কমিশন-ফতোয়া
নিজস্ব সংবাদদাতা
এসআইআরের বৈধ নথি হিসাবে আগেই বাতিল হয়েছিল ডমিসাইল শংসাপত্র। এ বার বাতিল হল মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ১ জানুয়ারির চিঠির জবাবে বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর এসআইআরের যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে এই নথি তালিকাভুক্ত ছিল না। ফলে এখন তাকে গ্রাহ্য করা হবে না। কমিশনের এই নয়া ফরমানে সাধারণ মানুষের নথি-ভোগান্তি বহু গুণ বাড়বে বলেই অনুমান। প্রশ্ন উঠছে, এত দিন ধরে সরকারি স্তরে বয়সের প্রমাণ হিসাবে যে নথি চলে এসেছে, তাকে গ্রহণ করা হল না কোন যুক্তিতে? এত দেরিতেই বা কেন তা জানানো হল? নথি প্রশ্নে কমিশনের ঘন ঘন অবস্থান বদলকেও যুক্তিগ্রাহ্য বলে মনে করছেন না অনেকেই।
এসআইআরের শুনানি পর্বে বিভিন্ন জেলায় বিকল্প নথি হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড দাখিল করার প্রবণতা শুরু হয়। এই নথি গ্রহণ করা যাবে কি না, জেলা প্রশাসনগুলি তা জানতে চেয়েছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কার্যালয়ের কাছে। গত ১ জানুয়ারি সিইও কার্যালয় এ ব্যাপারে দিল্লির নির্বাচন সদনের মতামত চায়। তার জবাবে দীর্ঘ ১৫ দিন পরে কমিশন জানিয়েছে, অ্যাডমিট কার্ড গ্রাহ্য হবে না। তাদের যুক্তি, বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যে নথিগুলি বৈধ হিসেবে ঘোষণা হয়েছিল, তার মধ্যে স্বীকৃত বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শংসাপত্র নথিভুক্ত ছিল। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড সেই তালিকার মধ্যে পড়ে না। কমিশনের এই যুক্তিতে স্তম্ভিত অনেকেই।
প্রশ্ন উঠছে, অসংখ্য মানুষ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনাই করেননি। অনেকে পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষাই দিতে পারেননি। আবার অনেকে পরীক্ষা দিয়েও পাশ করতে পারেননি। তাই পরীক্ষায় পাশ করার শংসাপত্র তাঁদের কারও কাছেই থাকার কথা নয়। তা হলে কি তাঁরা বৈধ নাগরিক নন? যাঁরা পাশ করতে পারেননি, তাঁদের ক্ষেত্রে পাশের শংসাপত্র আসবে কোথা থেকে?
কমিশন নিজেই বার বার দাবি করছে, তারা মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলতে চায় না। অথচ, তাদের তরফে এমন পদক্ষেপে সেই দাবির সারবত্তা কতটা থাকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যে নাগরিকদের জন্মের শংসাপত্র নেই, এত দিন তাঁরা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড দাখিল করেই সরকারি স্তরে বৈধতা প্রমাণ করে এসেছেন। সেই নথি গ্রাহ্য না হলে মানুষের সমস্যা বাড়বে না? কমিশনের পাল্টা যুক্তি, আরও ১৩টি নথি তালিকাভুক্ত রয়েছে। তার মধ্যে কোনও একটিও একজন বৈধ নাগরিকের থাকবে না, তা কী করে হয়? তা ছাড়া, যখন রাজ্য সরকারকে ১৩টির পরে অতিরিক্ত নথির প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছিল, তখন তারা এটা প্রস্তাব করেনি। ফলে শুনানি পর্বের শেষ দিকে নতুন একটি নথি তালিকাভুক্ত করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে অনেক ভুক্তভোগীই বলছেন, রাজ্য এবং কমিশনের এমন ‘টানাপড়েনে’ বাদ যাচ্ছে সব থেকে সহজ প্রমাণপত্রগুলি, যার ফলে দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
এর আগে ডমিসাইল শংসাপত্র