জাল নোট ছাপানোর কারখানার খোঁজ নরেন্দ্রপুরে! গ্রেফতার তিন
নিজস্ব সংবাদদাতা
জাল নোটের তিন কারবারিকে গ্রেফতার করে, শহরের উপকণ্ঠে জাল নোট ছাপানোর কারখানার হদিস পেল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার রামকৃষ্ণপল্লির একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রচুর জাল নোট এবং নোটের প্রতিলিপি বানিয়ে ছাপানোর যন্ত্র। গ্রেফতার করা হয়েছে তিন জনকে। লালবাজার জানিয়েছে, ধৃতদের নাম অলোক নাগ ওরফে বাপি, অয়ন নাগ ওরফে বিকি এবং শ্যামবাবু পাসোয়ান। এদের মধ্যে বাপি এবং বিকি
বাবা–ছেলে। তাদের বাড়ি নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার সোনারপুরে। শ্যামবাবুর বাড়ি খড়দহ থানা এলাকার টিটাগড়ে।
বুধবার বিকেলে পাটুলি থানা এলাকা থেকে ওই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রথমে উদ্ধার করা হয় প্রায় ন’হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় জাল নোট। পরে কারখানা থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার জাল টাকা। ধৃতদের বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বাবা-ছেলের বাড়ি সোনারপুরে হলেও তারা নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার রামকৃষ্ণপল্লির দাশানিপাড়ায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। ধৃতদের জেরা করে এই তথ্য সামনে আসে। সেখানে হানা দিয়ে দেখা যায়, রীতিমতো ছাপাখানা খুলে জাল ভারতীয় নোট ছাপানো চলছিল।
এক তদন্তকারী আধিকারিক জানান, ওই ভাড়া বাড়ি থেকে তিনটি স্ক্যানার এবং রঙিন প্রিন্টার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া, প্রচুর অর্ধসমাপ্ত ৫০, ১০০, ২০০ ও ৫০০ টাকার নোটে মোট ১৫ হাজার জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত তারা আসল টাকা স্ক্যান করে সেগুলি ওই প্রিন্টারে ছাপাত। আবার কোনও কোনও সময়ে ধৃতেরা আসল নোটের প্রতিলিপি বানাত ওই যন্ত্রের সাহায্যে। এসটিএফ সূত্রের খবর, শ্যামবাবুর কাজ ছিল ওই জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া। মূলত বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করার সময়ে আসল নোটের সঙ্গে ওই জাল নোট মিশিয়ে তা বিক্রেতাকে দেওয়া হত বলে অভিযোগ।
গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতেরা ওই জাল নোটগুলিকে আসলের মতো রূপ দিতে নোটের মাঝে যে সিকিয়োরিটি থ্রেড থাকে, সেটির ব্যবস্থাও করেছিল। সবুজ মার্কার পেন দিয়ে তাতে লেখা হত। ওই রকম ন’টি পেন বাজেয়াপ্ত করেছেন গোয়েন্দারা। এ ছাড়া, ভাড়া বাড়িতে হানা দিয়ে কয়েক হাজার আসল টাকাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর আগে হাতিয়াড়া-সহ একাধিক জায়গায় ওই জাল নোট ছাপানো এবং প্রিন্ট করার যন্ত্র মিলেছিল।