হবে। প্রতীকের বাড়ি ও অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ কোর্ট। আইপ্যাক-তল্লাশির ঘটনার পরে ইডি-র বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের শেক্সপিয়র সরণি থানা ও বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় চারটি এফআইআর দায়ের হয়। সেই সব এফআইআর-এ শীর্ষ কোর্টে স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলি নির্দেশে বলেছেন, “প্রাথমিক ভাবে আমাদের মত, এই মামলায় ইডি বা অন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত ও তাতে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের হস্তক্ষেপের গুরুতর প্রশ্ন জড়িত। দেশে যাতে আইনের শাসন থাকে, প্রতিটি সংস্থা স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারে, তাই এ মামলা খতিয়ে দেখা জরুরি। অপরাধীরা যাতে কোনও রাজ্যের পুলিশের সিলমোহরের ভরসায় বাঁচতে না পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।” বিচারপতিদের মতে, এখানে একটি সরকারি সংস্থার কাজে অন্য সরকারি সংস্থার হস্তক্ষেপের ‘বৃহত্তর প্রশ্ন’ জড়িত। তা নিয়ে সিদ্ধান্ত না হলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। অন্য রাজ্যেও আইনি অরাজকতা সৃষ্টি হবে। কারণ বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন এলাকায় শাসন করছে।
বৃহস্পতিবার ইডি অ্যাইপ্যাকের দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশিতে গেলে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ বর্মারা হাজির হয়েছিলেন। তুষার মেহতা অভিযোগ তুলেছেন, “এটা খুব খুব গুরুতর বিষয়। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ফাইল নিয়ে চলে গিয়েছেন। এটা চুরির অপরাধ। উনি এক জন ইডি অফিসারের ফোনও নিয়ে গিয়েছেন। এ সব চলতে দিলে এই ধরনের কাজে উৎসাহ দেওয়া হবে। রাজ্য মনে করবে, ওরা ঢুকে পড়ে চুরি করতে পারে, ধর্নায় বসতে পারে।” মেহতা বলেন, “আমি জানি না, এত মরিয়া পদক্ষেপ করার কী দরকার ছিল, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে পুলিশের ডিজি, কমিশনারকে নিয়ে তল্লাশির এলাকায় ঢুকে পড়তে হল!” মমতাকে ‘অভিযুক্ত’ তকমা দিয়ে মেহতা বলেন, তাঁর এতখানি সাহস হয়েছিল যে, তদন্তের সঙ্গে যুক্ত নথি নিয়ে বেরিয়ে তা সংবাদমাধ্যমকে দেখান। এ নিয়ে বরাবরের জন্য বার্তা যাওয়া দরকার।
মমতার অভিযোগ ছিল, ইডি ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কাছে তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল-সহ যে সব তথ্য রয়েছে, তা হাতাতে গিয়েছিল। তাঁকে প্রতীকের বাড়ি ও আইপ্যাকের অফিস, দুই জায়গা থেকেই ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে। মমতার অভিযোগ, ইডি আইপ্যাকের ঠিকানা থেকে তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল সংক্রান্ত তথ্য চুরি করতে গিয়েছিল। আজ সুপ্রিম কোর্টে মমতার হয়ে আইনজীবী কপিল সিব্বল একই অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মমতা প্রতীকের ল্যাপটপ ও মোবাইলে নিয়ে চলে এসেছিলেন। কারণ, তাতে তৃণমূলের নির্বাচন পরিচালনার সমস্ত তথ্য ছিল।
সিব্বলের পাশাপাশি রাজ্য সরকার ও ডিজি রাজীব কুমারের হয়ে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি যুক্তি দিয়েছেন, ইডি নিজের তল্লাশি সংক্রান্ত নথি বা পঞ্চনামায় যে কথা বলেছে, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলায় তার ঠিক উল্টো কথা বলেছে। পঞ্চনামায় লেখা রয়েছ, ইডি-র তল্লাশি শান্তিপূর্ণ ভাবে ও নিয়মমাফিক শেষ হয়েছে। ইডি কোনও নথি আটক করেনি। বিচারপতি মিশ্র মজা করে বলেছেন, “ওঁরা নিজেদের দিকে শান্তিপূর্ণ ভাবে তল্লাশি চালিয়েছেন, সে কথা বলতে চেয়েছেন। যদি ইডি কোনও নথি আটক না করে, তা হলে গোপন তথ্য চুরির প্রশ্ন আসে কোথা থেকে?” সিব্বল বলেন, গোপন নথি ফোটোকপি করে নেওয়াই যথেষ্ট।
ইডি-র হয়ে সলিসিটর জেনারেল মেহতা অভিযোগ তোলেন, ইডি কয়লা পাচারের মামলায় ২৭৪২ কোটি টাকা আর্থিক নয়ছয়ের তদন্ত করছে। কয়লা পাচারের টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে কলকাতা থেকে গোয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে ২০ কোটি টাকা আইপ্যাকের কাজে ব্যবহার হয়। মমতার হয়ে সিব্বল বলেন, ইডি-র কাছে কয়লা পাচারের মামলায় শেষ বয়ান এসেছে ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। দু’বছর ধরে ইডি কী করছিল? এখন নির্বাচনের মাঝে ইডি-র আইপ্যাকের ঠিকানায় যাওয়ার কী প্রয়োজন পড়ল? মেহতা বলেন, এখন পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন নেই। সিব্বল বলেন, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেলের এ রকম জ্ঞান যে, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন নেই! বিচারপতি মিশ্র বলেন, “উনি বলতে চাইছেন, পশ্চিমবঙ্গে এখনও নির্বাচন ঘোষণা হয়নি।”