গোলমাল বহাল, বাড়ল আপত্তির ফর্ম জমার সময়
নিজস্ব সংবাদদাতা
ভোটার নিয়ে আপত্তি জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ফর্ম-৭ জমা না নেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবারও জেলায় জেলায় বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। কোথাও তাদের সঙ্গে গোলমাল বাধল তৃণমূলের। প্রথম দফায় আপত্তি জানানোর সময়সীমা এ দিন শেষ হলেও রাতে সেই তারিখ ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোয়া, লক্ষদ্বীপ, রাজস্থান এবং পুদুচেরিতেও এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
এসআইআর শুনানি-পর্বে যে অশান্তির ঘটনা ঘটছে এবং ফর্ম-৭ জমা নেওয়াকে ঘিরে যা হয়েছে, সে সবের প্রেক্ষিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করে সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে যাবতীয় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদে নির্বাচন ঘোষণার আগেই ভোট-প্রক্রিয়া সংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব কমিশনের হাতে যাওয়ার সংস্থান আছে। যদিও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা অভিযোগ, “নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিএলও, এইআরও, ইআরও বা ডিইও-দের উপরে নির্বাচন কমিশন চাপ তৈরি করেছে। দু’ঘণ্টার রাস্তা ২০ মিনিটে পেরোতে গেলে চারটে দুর্ঘটনা ঘটবে। তা-ই হচ্ছে। এর জন্য একমাত্র দায়ী বিজেপি আর কমিশন।”
রাতে নির্দেশিকা জারি করে কমিশন জানিয়েছে, ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার সময় ১৯ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে কোনও দলের বিএলএ-র তরফে নাম বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্তির আবেদন জমা পড়েনি। তবে ব্যক্তিগত ভাবে ভোটারদের তরফে ৩৮,৯০৫টি ফর্ম-৭ জমা পড়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল বলেন, “কেউ ফর্ম-৭ জমা দিয়ে কারও নাম বাদ দিতে চাইলে ওই আপত্তির সমর্থনে তাঁকেই নথি বা প্রমাণ দিতে হবে। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁকে বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। অভিযোগকারী ভুল তথ্য দিলে সেটাও শাস্তিযোগ্য।”
এ দিন শিলিগুড়ি, রায়গঞ্জ, হেমতাবাদে ফর্ম-৭ জমা দিতে গেলে বিজেপি বাধার সম্মুখীন হয়। কোথাও জোর করে ফর্ম জমা দেয়, কোথাও ফর্ম নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। মালদহের ইংরেজবাজার, কোচবিহারের মাথাভাঙায় স্থানীয় বিজেপি বিধায়কেরাও একই অভিযোগ করেন। হাজারখানেক ফর্ম-৭ ব্লক অফিস জমা নেয়নি, এই অভিযোগে বাঁকুড়ার ওন্দায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিজেপি। ছাতনা ব্লক অফিসে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি বেধে যায়। তাদের জমা দেওয়া হাজার সাতেক ফর্ম-৭ এ দিন সন্ধ্যায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় ব্লক অফিস ঘেরাও করে বিজেপি। বিজেপিকে ফর্ম-৭ জমা দিতে দেওয়া হবে না, এই দাবিতে নদিয়ার চাকদহ ব্লক অফিসে তৃণমূল বিক্ষোভ দেখায়।
এমতাবস্থায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি শুভেন্দুর আর্জি, “পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলরাজ আবার প্রমাণিত। রাজ্যের শাসক দল সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ঘাত করতে চাইছে। দয়া করে পদক্ষেপ করুন। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ কাজে লাগান।” ওই অনুচ্ছেদের বলে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশ অগ্রাহ্য করার দাবিও তুলেছেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে গিয়েই তৃণমূলের অভিষেক অবশ্য দাবি করেছেন, “এই যে বাঁকুড়ায় নাম মুছে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার ফর্ম জমা করতে গিয়ে বিজেপি ধরা পড়েছে, তার সকলেই জীবিত। লিখিত নির্দেশ নেই। ২৯৪ আসনে এই ফর্ম জমা দিয়ে ৩০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেবে! চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে!” আর কলকাতায় এসে সর্বভারতীয় মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী অলকা লাম্বার মন্তব্য, “ভোট চুরি করে বিজেপি সরকার বানাতে চায়। অমিত শাহ এখানে তাঁবু ফেলুন! ভোট চুরি হলে, তাঁবু উপড়ে ফেলবেন বাংলার মানুষ!”