প্রতিবাদী যুবকের ফাঁসি নয় ইরানে, নরম ট্রাম্পও
ওয়াশিংটন ও তেহরান, ১৫ জানুয়ারি: বুধবার হুমকি এবং পাল্টা হুমকি চরমে উঠেছিল দু’পক্ষেই। বৃহস্পতিবার কিন্তু ইরান এবং আমেরিকা উভয়েই সুর কিছুটা নরম করেছে।
ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। আজ তারা তাদের আকাশসীমাও পুনরায় খুলে দিয়েছে। অন্য দিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানে আমেরিকার সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা ধীরে চলো নীতির আভাস দিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা চালিয়ে যায় এবং ধৃতদের ফাঁসি কার্যকর করে, তিনি সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবতে পারেন। আজ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন ইরানি সরকার বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করেছে এবং ফাঁসি কার্যকর করার পরিকল্পনাও স্থগিত করেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর নিজস্ব সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালেও ট্রাম্প লেখেন, “এটা ভাল খবর। আশা করি, এটা বজায় থাকবে!”
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, ইরানে নিহতের সংখ্যা অবশ্য এত দিনে ৩৪০০ ছাড়িয়েছে। আমেরিকা বুধবার কাতারে পশ্চিম এশিয়ায় তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করে। সম্ভাব্য আমেরিকান হামলার আশঙ্কা বাড়তে থাকে স্বাভাবিক ভাবেই। পাশাপাশি ইরানও গলা চড়িয়ে কার্যত ট্রাম্পকেই খুনের হুঁশিয়ারি দেয়। ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে যে গুলি চলেছিল, ইরানের সরকারি টেলিভিশন সেই ঘটনার ক্লিপিং দেখিয়ে দাবি করে, এ বার গুলি চললে তা আর ফস্কাবে না।
এই মেজাজ থেকেই আজ কিছুটা সরতে দেখা গিয়েছে ইরানকে। যেমন ২৬ বছর বয়সি এরফান সোলতানি ধৃত বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে প্রথম ফাঁসিকাঠে ঝুলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ইরানের বিচারবিভাগ কিন্তু এ দিন জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে না। সরকারি সংবাদমাধ্যমেও একই কথা বলা হয়। তিনি এখনও কারাগারেই রয়েছেন। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পরিষ্কার বলেন, “আজ বা কাল বা কোনও সময়েই কোনও ফাঁসি হবে না। ফাঁসির পরিকল্পনা নেই।” আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও সোলতানির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে একই তথ্য পেয়েছে।
ইরানে বর্তমান শাসকদের পতন আসন্ন বলে বুধবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে নির্বাসিত যুবরাজ রেজ়া পহলভির ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁকে খুব আশাবাদী শোনায়নি। তিনি বলেছিলেন, ‘‘পহলভি এমনি খুবই ভাল। কিন্তু দেশের লোক তাঁকে নেতা বলে মানবে কি না, জানি না।’’ এমতাবস্থায় ইরানের বর্তনাম সরকার কিছুটা নরম হওয়ায় ট্রাম্পও কিছুটা স্বস্তিতে। ট্রাম্পেরই অনুরোধে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। সেখানে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। ওভাল অফিসে ট্রাম্পকে এ দিন প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানে সামরিক পদক্ষেপের কথা আমেরিকা এখনও ভাবছে কি না। ট্রাম্প জবাবে বলেন, “আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব এবং দেখব পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।”
সংবাদ সংস্থা