আনোয়ার-গিল জুটিতে মান বাঁচল ইস্টবেঙ্গলের
শুভজিৎ মজুমদার
জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে হারের পরে এফসি গোয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। মাত্র ১৩ ম্যাচের আইএসএলে ইতিমধ্যেই পাঁচ পয়েন্ট নষ্ট করে আরও একবার স্বপ্নভঙ্গের অশনি সঙ্কেত লাল-হলুদ শিবিরে।
সুপার কাপ ফাইনালে এফসি গোয়ার কাছেই টাইব্রেকারে হেরেছিল ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবার বিকেলের যুবভারতীতেও হারতে হত মশালবাহিনীকে। চরম লজ্জা থেকে ইস্টবেঙ্গলকে রক্ষা করলেন আনোয়ার আলি ও প্রভসুখন সিংহ গিল।
গোয়ার বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুসো একাধিক পরিবর্তন করেছিলেন। মহেশ সিংহকে শুরু থেকে খেলালেন। অথচ জয় গুপ্তকে রেখেছিলেন অতিরিক্তের তালিকায়। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে হারের পরে মাধি তালাল ও রাফায়েল মেসির খেলার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অস্কার বলেছিলেন, সকলেই পুরনো দলের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। গোয়া থেকে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেওয়া জয়কে তা হলে কেন ৭৮ মিনিট পর্যন্ত বসিয়ে রাখলেন? আগের ম্যাচেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল সাউল ক্রেসপো না খেললে ইস্টবেঙ্গল মাঝমাঠের অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়। স্পেনীয় মিডফিল্ডারকে তিনি রিজ়ার্ভ বেঞ্চেই বসিয়ে রাখলেন।
গোয়ার কোচ মানোলো মার্কেসের রণকৌশলই ছিল মিগুয়েল ফিগুয়েরা, এডমুন্ড লালরিনডিকাকে খেলতে না দেওয়া। চূড়ান্ত ব্যর্থ মহেশও। খেলা শুরু হওয়ার সাত মিনিটের মধ্যেই রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল লাল-হলুদ জনতার। পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়া ঈশান পণ্ডিতার পা থেকে অসাধারণ ট্যাকলে বল কেড়ে নেন আনোয়ার। ছয় মিনিট পরে আকাশ সাঙ্গওয়ান মাইনাস করেছিলেন পেনাল্টি বক্সে। বল ঈশানের কাছে যাওয়ার আগেই কর্নার করে বিপন্মুক্ত করেন আনোয়ার।
পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল ছিল যে ইস্টবেঙ্গল প্রথম গোল করার মতো সুযোগ পেল ২৭ মিনিটে! বাঁ-প্রান্ত দিয়ে উঠে বিপিন সিংহ সেন্টার করেছিলেন। ছয় গজ বক্সের মধ্যে থেকে ইউসেফ এজ়েজ্জারি হেড না করে ভলি করতে গিয়ে বল ক্রসবারের উপর দিয়ে তুলে দিলেন। ৩৪ ও ৩৯ মিনিটে ত্রাতা হয়ে উঠলেন প্রভসুখন। প্রথমে ব্রাইসন ফার্নান্দেস, তার পরে ঈশানের শট বাঁচালেন। ৪১ মিনিটে বরিস সিংহের শট ধাক্কা খায় ক্রসবারে। অবশ্য এক মিনিটের মধ্যে মহম্মদ রশিদের শটও গোয়ার গোলরক্ষকের হাতে লেগে ক্রসবারে ধাক্কা খায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও এক দৃশ্য। তা সত্ত্বেও ক্রেসপোর কথা মনে পড়ল না অস্কারের। তিনি নামালেন অ্যান্টন সোজবার্গকে। তিনিও ব্যর্থ। ইস্টবেঙ্গলের লগ্নিকারী সংস্থার তৈরি মাথাব্যথা উপশমের মলম দারুণ জনপ্রিয়। অ্যান্টনদের
যা হাল তাতে কোনও ওষুধই কাজ করবে না। সংযুক্ত সময়ে (৯০+৩ মিনিট) রশিদের শট পেনাল্টি বক্সের মধ্যে আকাশের হাতে লেগেছিল। ইস্টবেঙ্গলের পেনাল্টির দাবিতে রেফারি কর্ণপাত করেননি। সাংবাদিক বৈঠকে অস্কার অবশ্য বললেন, ‘‘ছেলেরা বলেছে,
পরিষ্কার হ্যান্ডবল ছিল।”
হতাশ: গোয়ার সঙ্গে ড্রয়ের পরে রশিদরা। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য
আইএসএল
ইস্টবেঙ্গল ০n গোয়া ০