মুখ্যমন্ত্রীর
পিছনে রাজনৈতিক কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘রাজ্যপালের ইস্তফার পিছনের কারণ আমি এখনও জানি না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে কোনও রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যপালের উপরে চাপ তৈরি করে থাকেন, তা বলে আশ্চর্য হব না।’’ আজ দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গুলাম আহমেদ মীর বলেন, ‘‘সব ইঙ্গিত রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকেই যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, সেই কারণেই ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম নিয়ে ফয়সালায় দেরি করা হচ্ছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন বনাম রাজ্য সরকার, তৃণমূল বনাম বিজেপির লড়াই চলছে।’’ মীর ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার আজ নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে ও তারপরে দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি তুলেছেন, ভোট ঘোষণার আগে ‘বিবেচনাধীন’ ৬০ লক্ষ ভোটারের ‘অ্যাজুডিকেশন’-এর প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
বিজেপি নেতাদের একাংশ মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনে ভোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের ক্যাডার বাহিনীকে পুরোপুরি লাগাম পরিয়ে রেখে ভোট করা যাবে। বিজেপির অন্য অংশের মত, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভোট হলে তার ফায়দা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ পিছনে চলে যাবে। শুধু এসআইআর ও রাষ্ট্রপতি শাসনই প্রধান বিষয় হয়ে উঠবে।
বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, এ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ কৌশল হিসেবে কেন্দ্র বা নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টাই সুপ্রিম কোর্টের উপরে ছেড়ে দিতে চাইবে। সুপ্রিম কোর্টই ৬০ লক্ষ মানুষের ফয়সালা করতে বিচারক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যদি তাঁরা সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারেন, তা হলে ভোটের কী হবে, তা সুপ্রিম কোর্টকেই ঠিক করতে হবে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ১০ মার্চ শুনানিতে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে, ৬০ লক্ষের মধ্যে কতখানি কাজ এগিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার কেরলে পৌঁছেছে। শুক্রবার ও শনিবার সেখানে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক হবে। তার পরে ৯ ও ১০ মার্চ নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে যাবে। ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কলকাতায় ব্রিগেডে জনসভা ও অসমে গুয়াহাটি-শিলচর এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন রয়েছে। তার পরে ১৫ মার্চ রবিবার পশ্চিমবঙ্গ, কেরল-সহ পাঁচ বিধানসভার ভোট ঘোষণা হতে পারে। অথবা ১৬ মার্চ রাজ্যসভার নির্বাচনের পরে ১৭ মার্চ ভোট ঘোষণা হতে পারে। সে ক্ষেত্রেও ২০ এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গে ভোট শুরু করে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে তিন দফায় ভোটগ্রহণ সম্ভব। ২০২১-এ ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে আট দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছিল। ভোটগণনা হয়েছিল ২ মে। কংগ্রেস আজ দাবি তুলেছে, ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’-এর তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ নামের ফয়সালার পরেই ভোট ঘোষণা হোক। দরকারে তার জন্য পশ্চিমবঙ্গে এক দফায় ভোটগ্রহণ হোক।