বিহার ছেড়ে দিল্লির পথে নীতীশ কুমার
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি, ৫ মার্চ: মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে এ বার দিল্লিতে রাজ্যসভার দিকে পা বাড়ালেন নীতীশ কুমার।
আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিহার থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেন নীতীশ। তাঁর পরিবর্তে বিজেপির কোনও নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা। তা হলে প্রথম বার কোনও বিজেপি নেতা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। গত নভেম্বরে বিহারবাসীর দেওয়া জনাদেশকে উপেক্ষা করে নীতীশ কুমারকে এ ভাবে আচমকা সরানোর পিছনে জেডিইউ নেতা সঞ্জয় ঝা ও রাজীব রঞ্জন সিংহের হাত দেখছেন বিক্ষুব্ধ জেডিইউ নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, ওই সিদ্ধান্তের ফলে খুব দ্রুত দল হিসাবে বিহারের রাজনীতিতে গুরুত্বহীন হতে চলেছে জেডিইউ।
মাঝের কিছু সময় বাদ দিলে প্রায় দু’দশক ধরে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো নীতীশ যে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভায় যেতে পারেন, সেই জল্পনার সূত্রপাত হয় গত কাল বিকালে। মুখ্যমন্ত্রিত্বের মতো গুরুদায়িত্ব থেকে সরে আসার পিছনে তাঁর শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া অন্যতম কারণ বলেও শোনা যাচ্ছিল। এমনিতেই গত বেশ কিছু দিন ধরে সরকারের নানা সিদ্ধান্তের কথা নীতীশের বদলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করছিলেন বিজেপির নানা মন্ত্রী। ফলে প্রশ্ন তৈরিই হচ্ছিল। আজ সকালে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নীতীশ নিজেই সমাজমাধ্যম এক্স-এ জানান, গোড়া থেকেই বিহার বিধানসভা ও সংসদের উভয় কক্ষের সদস্য হওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। তাই তিনি এ যাত্রায় রাজ্যসভায় যেতে চলেছেন। অতীতে লোকসভা ও বিহার বিধানসভা ও বিধান পরিষদ থেকে নির্বাচিত হলেও রাজ্যসভায় প্রথম বার যেতে চলেছেন নীতীশ। নিজের বক্তব্যে সমর্থনের জন্য বিহারবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে নীতীশ বলেন, ‘‘দুই দশকের বেশি আপনারা ধারাবাহিক ভাবে আমার উপরে ভরসা ও বিশ্বাস রেখেছেন। যার জোরে আমি বিহারের সেবা করতে সক্ষম হয়েছি। ...নতুন যে সরকার হবে, তার প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে।’’ সূত্রের খবর, পাঁচ রাজ্যে ভোটের পরে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করতে পারে মোদী সরকার। তখন নীতীশকে সেই মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
নীতীশকে আচমকা রাজ্যসভায় পাঠানোর পিছনে জেডিইউয়ের কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় ঝা ও নীতীশ-ঘনিষ্ঠ জেডিইউ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংহের হাত রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, অমিত শাহ ঘনিষ্ঠ ওই দুই জেডিইউ নেতা নীতীশকে বিহারের ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে শাসক জোটের রাশ সম্পূর্ণ ভাবে বিজেপির হাতে তুলে দিলেন। যদিও সঞ্জয় ঝা শিবিরের দাবি, নীতীশের যা শারীরিক অবস্থা, তাতে এ হল সম্মানজনক প্রস্থান। কিন্তু এর ফলে মহারাষ্ট্রে যে ভাবে শিবসেনা (শিন্দে) শিবিরের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তেমনই আগামী দিনে বিহারের রাজনীতি থেকে জেডিইউ মুছে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলের বর্ষীয়ান নেতা শ্যাম রজক। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের মতে, ‘‘এমনটাই যে হবে, তা আমি ভোটের আগেই বলেছিলাম। ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে নীতীশকে লোক দেখানো মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী করা হয়েছিল।’’
ভোটের আগে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে এনডিএ-র স্লোগান ছিল ‘২৫ সে ৩০— ফির সে নীতীশ।’ যদিও অতি বড় জেডিইউ সমর্থক জানতেন নীতীশের যা শারীরিক অবস্থা, তাতে তিনি পাঁচ বছর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব সামলাতে পারবেন না। কিন্তু মাত্র চার মাসের মধ্যেই যে নীতীশের এ ভাবে বিদায় ঘটবে, তা সম্ভবত ভাবেননি কেউই।