‘যুদ্ধ চলবে কত দিন, বলবে ইরান’, বদলার হুমকি দূতের
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি, ৫ মার্চ: নয়াদিল্লির মাটিতে দাঁড়িয়ে আমেরিকার উদ্দেশে হুমকি দিল তেহরান। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালি সাংবাদিকদের সামনে স্বর চড়িয়ে বলেছেন, তাঁরা এই যুদ্ধ শুরু করেননি, কিন্তু তা কত দিন চলবে তা ইরানের উপরেই নির্ভর করছে। ফাতালির কথায়, “আমরা আলোচনার টেবিলেই ছিলাম। ওরা (আমেরিকা) তা ধ্বংস করে দিয়েছে। ওরা যুদ্ধ শুরু করেছে। অপরাধী, দুর্বৃত্ত সামরিক আগ্রাসনের মুখে আমাদের ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা ঘোষণা করছি, এর বদলা ভাল করেই নেব।”
একই সময়ে দিল্লিতে দাঁড়িয়েই রাইসিনা সংলাপে যোগ দিতে আসা আমেরিকার বিদেশ দফতরের উপসচিব ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ বলেছেন, ‘‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান শান্তির প্রেসিডেন্ট হতে, এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ।” তাঁর কথায়, “এটা বিদেশনীতি সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলির ব্যর্থতা যে, আমরা সংঘাতের কোনও সমাধানসূত্র পাচ্ছি না। আমেরিকা তো কোনও দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়। আমরা রাষ্ট্রপুঞ্জ নই। এটাও বুঝতে হবে ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতির মানে এই নয় যে, ‘আমেরিকাই একমাত্র’। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান মহান আমেরিকা গড়তে। তিনি এটাও আশা করেন, ভারত এবং অন্য দেশগুলিও মহান হোক।” পশ্চিম এশিয়ার চলতি সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ল্যান্ডিউ বলেছেন, “ইরানের বর্তমান জমানা শেষ হওয়ার বিষয়টি অন্য কারও পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কারণ পরমাণু অস্ত্রের চাবিকাঠি তাদের কাছে নেই।” আজ ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ল্যান্ডাউয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
অন্য দিকে, ইরানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপরে হামলাকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে বর্ণনা করেছেন ইরানের দূত। জানিয়েছেন, ১৬০ জন ছাত্রছাত্রী মারা গিয়েছে সেই হামলায়। ভারত মহাসাগরে ইরানের জাহাজডুবির ঘটনা প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “ওরা হিসাব করছে কত ধানে কত চাল। কিন্তু এটা সৌভাগ্যের বিষয় যে, ওরা ইরানের ক্ষমতা ও সামর্থ্য ভাল করেই জানে। আমরা যুদ্ধ চাইনি, কিন্তু ওরা শুরু করেছে। কত দিন ধরে এই যুদ্ধ চলবে, তা আমাদের হাতে। এটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ।” পশ্চিম এশিয়ায় এই উত্তেজনা বৃদ্ধির আবহে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ফাতালি বলেন, “ভারত সরকারের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তবে এই ঘটনায় সমস্ত সরকারকে পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে।”