তেল-গ্যাসে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
নিজস্ব প্রতিবেদন
পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত যত তীব্র হচ্ছে, তত বেশি উদ্বেগ ঘিরে ধরছে ভারতের জ্বালানি বাজারকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিমধ্যেই ক্ষতির মুখে পড়েছে তেল সংস্থাগুলি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণনকারীরা লিটারে ২০ টাকা লোকসান গুনছে তারা। সংঘাত বহাল থাকলে তা আরও চওড়া হবে। সরকারি সূত্রের খবর ছিল, এই অবস্থায় রাশিয়া থেকে ফের অশোধিত তেল কেনা বাড়াতে পারে ভারত। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত হিসেবে যা ক্রমশ বন্ধ হওয়ার পথে। তবে এই প্রেক্ষিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আমেরিকার বার্তা, ‘‘ভারত বিকল্প উৎসের কথা ভাবলে আমেরিকার থেকে ভাল আর কেউ নেই। এ দেশ জ্বালানি সহযোগিতায় রাজি।’’
বৃহস্পতিবার সরকারি সূত্রের অবশ্য দাবি, তেল-গ্যাস নিয়ে সমস্যা নেই দেশে। যথেষ্ট মজুত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। বলা হয়েছে, খুচরো ক্রেতাদের জন্য তেল-গ্যাসের জোগানে কাটছাঁট করার পরিকল্পনাও নেই। অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ক্ষেত্রে গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করতে গেল-কে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অপ্রত্যাশিত ঘটনার শিকার’ হিসেবে তকমা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলি যদিও বলছে, অশোধিত তেল কিনে শোধন করে বিক্রি করতে যা খরচ হচ্ছে, তার থেকে অনেক কমেছে প্রতি লিটার তেল বিক্রি থেকে আয়। যার মূল কারণ, ডলারের তুলনায় টাকার দামের পতন এবং বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের চড়া দর। যা (ব্রেন্ট ক্রুডের) এখন ব্যারেলে প্রায় ৮৪ ডলার।
বিশ্লেষকদের হিসাব, লিটারে পেট্রল বা ডিজ়েল বিক্রি করে তেল সংস্থা আয় করে প্রায় ৩.৫০-৪.৫০ টাকা। তবে অশোধিত তেলের ব্যারেল এক ডলার বাড়লে মুনাফা কমে ০.৫০-০.৫৫ টাকা। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তাই ক্ষতি প্রতি দিন বাড়ছে। সিঁদুরে মেঘ গ্যাসের জোগানেও। দেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী গেল জানিয়েছে, তারা পেট্রোনেটের গ্যাস পাচ্ছে না ৪ মার্চ থেকে। ফলে দেশে খানিকটা কমানো হয়েছে জোগান। তবে এখন সরবরাহ যথেষ্ট। কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, গ্যাস কেনার জন্য অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার সঙ্গে কথা চালানো হচ্ছে। পেট্রোনেটের মাধ্যমে এই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বটে। কিন্তু হাতে যথেষ্ট মজুত থাকায় সমস্যা হবে না।
প্রাক্তন গেল কর্তা তথা বর্তমানে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানির সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায় যদিও মনে করছেন, এখনই সমস্যা হবে না। চাপে পড়বেন না গৃহস্থ। পরিবহণেও ভাবনার কিছু নেই। তবে যুদ্ধ সপ্তাহ তিনেক চললে কিংবা তেল ভরা জাহাজ আটকে রইলে ভাবতে হবে। তাঁর আশা, আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি হয়তো স্বাভাবিক হবে। কারণ বিশ্ব বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে আমেরিকাকে এই পদক্ষেপ করতেই হবে। বিশেষত সেই বাণিজ্যে যেহেতু পশ্চিম এশিয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। রান্নার গ্যাসের সমস্যা থাকলেও এখনই সিলিন্ডার পেতে সমস্যা হবে না, বলছে সংস্থাগুলি। ‘অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স ফেডারেশন’-এর সহ সভাপতি বিজন বিশ্বাস বলেন, ‘‘এখনও তেমন সমস্যা হয়নি। তবে আমাদের তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছে তেল সংস্থাগুলি। সে কথা মাথায় রেখেই এগোচ্ছি।’’
সংঘর্ষের মধ্যে ফুজাইরাহ উপকূলে ট্যাঙ্কার। রয়টার্স
কেন্দ্রের আশ্বাস
দেশে রান্নার গ্যাস (এলপিজি), তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অশোধিত তেলের কোনও ঘাটতি নেই।
জ্বালানি মজুতের পরিমাণ যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক।
অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ভারতকে গ্যাস বেচতে চায়। সম্প্রতি নতুন চুক্তি সই হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং আমেরিকার সঙ্গেও।
সন্ধান চলছে তেল-গ্যাসের অন্যান্য বিকল্প উৎসের।
কাতার এনার্জি গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করায় চিন্তার কিছু নেই, তাদের থেকে আমদানি কম।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি এবং তেল উৎপাদক এবং রফতানিকারীদের সংগঠন ওপেক-এর সঙ্গেও আলোচনা চালানো হচ্ছে।
রফতানিকারী জাহাজে বিমার সুবিধার জন্য কথা চলছে আমেরিকার সঙ্গে। দিনে দু’বার জ্বালানি-পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি।