বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা মোটামুটি ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা জানিয়ে দিয়েছে। বাম ও বিজেপি এখনও পুরো তালিকা প্রকাশ করেনি। তৃণমূলের তালিকায় বিনোদন জগতের প্রার্থীদের নাম নিয়ে জনমানসে খানিক আগ্রহ ছিল। কিন্তু সেখানে তেমন কোনও চমক নেই। গত বিধানসভার কিছু তারকা-প্রার্থী আছেন আবার কিছু নাম বাদও পড়েছে। প্রত্যাশা মতোই রয়েছেন, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, গায়িকা অদিতি মুনশি। গত বারের কেন্দ্র থেকেই লড়ছেন তাঁরা। তেমনই সোনারপুর দক্ষিণ থেকে লড়বেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র। বদল হয়েছে সোহম চক্রবর্তীর কেন্দ্র। চণ্ডীপুরের বদলে অভিনেতা এ বার নদিয়ার করিমপুর থেকে দাঁড়াচ্ছেন। টলিউডের মধ্যে নাম নেই চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী এবং কাঞ্চন মল্লিকের। ২০১১ থেকে বারাসতের বিধায়ক পদে রয়েছেন চিরঞ্জিৎ, অনেক দিন ধরেই অব্যাহতি চাইছিলেন তিনি। এ বার দলীয় নেতৃত্ব তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরেই গুঞ্জন ছিল, কাঞ্চন মল্লিক টিকিট পাবেন না, বাস্তবেও তাই হয়েছে। তাঁর আচরণ এবং কাজ দুটো নিয়েই নাকি দল ক্ষুব্ধ।
নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তারকা প্রার্থীরা প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছেন। দ্বিতীয় বার নির্বাচনে লড়তে নেমে রাজ বললেন, “মানুষের জন্য কাজ করেছি, তাই দল সুযোগ দিয়েছে।” নিজের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী রাজের মন্তব্য, “জিতে এলে যে কাজগুলো এখনও বাকি রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করব।”
দলীয় নেতৃত্ব তাঁর উপরে ক্ষুব্ধ, সে কারণে কঠিন জায়গা থেকে তাঁকে লড়তে হতে পারে, এমন কথা শোনা যাচ্ছিল। যদিও সোহম মনে করেন, দল তাঁকে যোগ্য ভেবেছেন বলেই ফের নির্বাচনের টিকিট দিয়েছে। “আমি কৃতজ্ঞ যে আমাকে এ বারও সুযোগ দেওয়া হল। কোন জায়গায় দাঁড়াচ্ছি, সেটা তেমন জরুরি নয়। আমার লক্ষ্য মানুষের জন্য কাজ করা।”
সদ্য মা হয়েছেন অদিতি মুনশি। তিনি রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে গত বার লড়েছিলেন, এ বারেও সেই কেন্দ্র পেয়েছেন। সন্তান, গানের স্কুল এবং বিধানসভা এলাকা... সবটা সামলানোই এই মুহূর্তে তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বলছিলেন, “রাজনীতির ক্ষেত্রে এখনও আমি নতুনই বলা চলে। কিন্তু প্রথম থেকে যে ভাবে আমার বিধানসভা এলাকার মানুষ আমাকে ঘরের মেয়ের মতো ভালবেসেছেন, আশীর্বাদ করেছেন, সেই জোরেই আমি এগিয়ে যাচ্ছি।” লাভলি মৈত্র আশাবাদী ছিলেন তিনি নির্বাচনে লড়বেন, যে কারণে নাম ঘোষণার দু’দিন আগেই র্যালি বার করে ফেলেছিলেন। তাঁর কথায়, “দল আমাকে আবার সুযোগ দিয়েছে। জিতলে নজরে থাকবে সোনারপুর দক্ষিণকে কী ভাবে সাজাতে পারি।”
তারকা প্রার্থী হিসেবে রাজনীতিতে এসেছিলেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, কিন্তু অভিনয় থেকে তিনি আপাতত যোজনখানেক দূরে। দু’বছর আগে বরাহনগর কেন্দ্র থেকে বাই-ইলেকশনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছেন সায়ন্তিকা। কেন্দ্রই এখন তাঁর ধ্যানজ্ঞান। নাম ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছেন নৈহাটির বড়মার মন্দিরে আশীর্বাদ নিতে। টিকিট পাবেন প্রত্যাশা ছিল? “হ্যাঁ, কাজ করলে তার ফল পাওয়া যায়। আমি জানি, বরাহনগরের মানুষ আমার সঙ্গে আছেন, থাকবেন,” মন্তব্য সায়ন্তিকার। জানালেন, দায়িত্ব সামলে সময় পেলে ফের অভিনয় করবেন।
গত কয়েকটি বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে টলিউড ইন্ডাস্ট্রি থেকে যোগদানের সংখ্যা যে হারে বাড়ছিল তাতে এ বারে আরও নতুন মুখ দেখতে পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু শাসক শিবিরের পাশাপাশি বিরোধীরাও তারকাদের উপরে ভরসা দেখাননি। বিজেপি থেকে তারকা প্রার্থী বলতে একমাত্র রুদ্রনীল ঘোষ, তিনি শিবপুর থেকে টিকিট পেয়েছেন। ইমন চক্রবর্তী, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের হয়ে লড়তে পারেন, এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল। যদিও দু’জনেই বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এ দিন তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর সমাজমাধ্যমে ইমনের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট, “বিগত কয়েকমাস ধরে আপনারা আমাকে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড় করিয়েছিলেন। এই যেমন উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া... কেউ কেউ কেওড়াতলাতেও দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন... এ বার আমাকে একটু নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিন।”
তারকা নির্ভরতা কি এ বার কমতির দিকে?