ছেলেদের রক্ত গরম ছিল, বলছেন সূর্য
নিজস্ব প্রতিবেদন
১৭ মার্চ: ২০২৪ এবং ২০২৬। পরপর দু’বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব ভারত ছাড়া আর কোনও দেশের নেই। দু’বারই দলে ছিলেন সূর্যকুমার যাদব। দু’বছর আগে এক জন ক্রিকেটার হিসেবে আর এ বার অধিনায়কের দায়িত্বে।
কী পার্থক্য ছিল এই দু’টো দলের? নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সূর্য মনে করেন, একটা দলে ছিল অভিজ্ঞতার দাপট, অন্য দলটায় তারুণ্যের আগুন। পিটিআই ভিডিয়োয় সূর্য বলেছেন, ‘‘দু’টো দলের মধ্যে উনিশ-বিশের তফাত ছিল। ওই দলটায় অভিজ্ঞতার দাপট ছিল। আর এই দলটার ছেলেদের রক্ত তো একেবারে গরম ছিল।’’
২০২৪ সালের দলে ছিলেন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, রবীন্দ্র জাডেজার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। যাঁরা দলকে ট্রফি জিতিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন। আর এ বারের দলে ছিলেন অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষন, সঞ্জু স্যামসনের মতো ভয়ডরহীন তরুণ ক্রিকেটাররা। দু’টো দলের তুলনা টেনে সূর্য বলেছেন, ‘‘২০২৪ সালে আমাদের দলে অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ছিল। সবার নির্দিষ্ট ভূমিকা ছিল। এ বারের দলটাতেও ভাল ক্রিকেটার ছিল, কিন্তু গত বারের দলটা অভিজ্ঞতায় ভরপুর ছিল।’’
তরুণ দলকে নিয়ে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে নামা বড় পরীক্ষা ছিল সূর্যের সামনে। যা নিয়ে অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘আমাদের দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারের বয়স ওই ২৭ বছরের মধ্যে। ওদের বোঝানো প্রয়োজন ছিল, ভারতের মাটিতে, পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লাখ দর্শকের সামনে বিশ্বকাপ জেতার অনুভূতিটা কী রকম হতে পারে।’’
দলে অভিজ্ঞতা কম থাকলেও জেতার যে খিদেটা ছেলেদের মধ্যে ছিল, সেটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলে মনে করেন সূর্য। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘দক্ষতার দিক দিয়ে দেখতে গেলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দু’টো দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য ছিল না। কিন্তু এবার সবাই খুব চনমনে ছিল।’’ ২০২৪ সালে তিনি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন দলের এক সদস্য হিসেবে। এ বার জিতলেন অধিনায়ক হিসেবে। দু’টি জয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে সূর্য বলেছেন, ‘‘দু’বারই আমাদের লক্ষ্য একই ছিল। কিন্তু এ বার আবেগটা বেশি ছিল। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ বলে কথা। তার উপরে আমদাবাদে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা আরও বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’’ ২০২৩ সালের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ ফাইনাল হারার পরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আমদাবাদেই জেতে ভারত।
বিশ্বকাপ ফাইনালে একটা অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন পেসার আরশদীপ সিংহ। ফলো থ্রুতে বল ধরে তিনি ছুড়ে মারেন নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটসম্যান ড্যারিল মিচেলের দিকে। বলটা গিয়ে লাগে মিচেলের শরীরে। এর পরে উত্তেজিত হয়ে আরশদীপের দিকে এগিয়ে যান মিচেল। কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন দুই ক্রিকেটার। যা নিয়ে সূর্য বলেছেন, ‘‘উত্তেজনার মুহূর্তে এই রকম ঘটনা কখনও কখনও ঘটে যায়। ওই সময় বোঝাও যায় না
ঠিক, কী ঘটছে।’’
ফাইনালের পরে ক্ষমা চেয়ে নেন আরশদীপ। তবু জরিমানার মুখে পড়তে হয় ভারতীয় পেসারকে। সূর্য বলেছেন, ‘‘আমি পরে আরশদীপকে বলি, ব্যাপারটা ঠিক হয়নি পাজি। তার পরে আরশদীপ গিয়ে মিচেলের কাছে ক্ষমা চেয়ে আসে।’’ সূর্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা সব সময় মাঠে একটা আদর্শ ভাবমূর্তি ধরে রাখতে চান। এবং, যাতে কাজটা হয়, সেটা দেখার দায়িত্ব তাঁরই। সূর্যের কথায়, ‘‘আমিও কিন্তু মিচেলের কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলাম। অধিনায়ক হিসেবে সেটা করা আমার কাজ ছিল।’’
মুগ্ধ: তরুণ ক্রিকেটারদের প্রশংসায় সূর্য। ফাইল চিত্র