৭৪ বিধায়ক
কলকাতার ১১ আসনের মধ্যে তিনটিতে নতুন মুখ এনেছে তৃণমূল। মানিকতলায় প্রয়াত সাধন পান্ডের স্ত্রী সুপ্তির বদলে তাঁদের মেয়ে শ্রেয়াকে টিকিট দিয়েছেন মমতা। এন্টালিতে স্বর্ণকমল সাহার বদলে তাঁর ছেলে সন্দীপন এবং বেলেঘাটায় বর্ষীয়ান পরেশ পালের জায়গায় কুণাল ঘোষের মনোনয়ন নতুন প্রজন্মের স্বীকৃতি স্পষ্ট করছে। একই সঙ্গে কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে জোড়াসাঁকো কেন্দ্রে বিধায়ক বিবেক গুপ্তর জায়গায় তৃণমূলের পুরনো সঙ্গী, পুর-প্রতিনিধি বিজয় উপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থা বিবেচনা করে নবদ্বীপের মতো আসনে শারীরিক সমস্যা সত্ত্বেও বদলের ঝুঁকি এড়িয়ে পুণ্ডরীকাক্ষ (নন্দ) সাহাকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। গৌতম দেবের মতো নেতাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে শিলিগুড়ির মতো আসন। গত বারের এক ঝাঁক বিধায়কের আসন বদল হয়েছে। চর্চা মতোই টিকিট পাননি বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক তথা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কেন্দ্রে পাশের কেন্দ্র থেকে আনা হয়েছে রত্না চট্টোপাধ্যায়। রত্নার বেহালা পূর্বে প্রার্থী হয়েছেন মমতা-ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। প্রার্থী বদল হয়েছে শেখ শাহজাহানের সূত্রে বহুচর্চিত সন্দেশখালি আসনে। ক্যানিং পূর্ব থেকে সরিয়ে ভাঙড়ে প্রার্থী করা হয়েছে সওকাত মোল্লাকে। অভিষেকের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের মধ্যে ফলতায় প্রার্থী জাহাঙ্গির খান।
পূর্ব মেদিনীপুরে কিছু বদল করেছে তৃণমূল। তমলুকে পুরসভার অপসারিত পুর-প্রধান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়কে প্রার্থী করা হয়েছে। পাঁশকুড়া পূর্ব ও পশ্চিম কেন্দ্রে নতুন প্রার্থী হয়েছেন অসীম মাজি ও সিরাজ খান। নন্দীগ্রামের ‘শহিদের মা’ ফিরোজা বিবি শারীরিক কারণেই পাঁশকুড়া পশ্চিমে তাঁর ছেলেকে চান। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করে মন্ত্রিত্ব হারানো মমতার পুরনো সঙ্গী অখিল গিরি নিজের কেন্দ্র রামনগরেই মনোনয়ন পেয়েছেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্রে নতুন চমকের রাস্তা নেয়নি তৃণমূল। স্থানীয় রাজনীতিতে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তাঁরই একদা ঘনিষ্ঠ তথা হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত পবিত্র করকে প্রার্থী করা হয়েছে। রাজ্যসভার সদ্যপ্রাক্তন সদস্য, তরুণ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে উলুবেড়িয়া পূর্বে প্রার্থী করা হয়েছে। তৃণমূলের আর এক তরুণ দেবাংশু ভট্টাচার্য মনোনয়ন পেয়েছেন চুঁচুড়ায়। বাদ পড়েছেন বিধায়ক অসিত মজুমদার। হুগলিতে মমতার পুরনো সঙ্গী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্তকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী ছেলে শীর্ষণ্য প্রার্থী উত্তরপাড়ায় অভিনেতা-বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের জায়গায়।
বিজেপিতে গিয়ে ফিরে এলেও অভিষেকের নিদানে দীর্ঘ দিন ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করে এ বার প্রার্থী হয়েছেন মমতা মন্ত্রিসভার প্রাক্তন সদস্য রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর পুরনো কেন্দ্র ডোমজুড়ে নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায়। সব্যসাচী দত্ত টিকিট পেয়েছেন বারাসতে। সদ্য আইন দফতর হারানো মলয় ঘটক ও তাঁর ভাই অভিজিৎ টিকিট পেয়েছেন। বাঁ দিকে অভিষেক আর ডান দিকে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে বসিয়ে তালিকা ঘোষণা করে মমতা বলেন, ‘‘২০২৬-এ ২২৬-এর বেশি আসন পাবে তৃণমূল।’’