সূত্রের খবর।
নানা স্তরে চর্চার মধ্যেই মঙ্গলবার মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান অর্থনীতিবিদ। তাঁর কথায়, ‘‘আমি বুঝতে পেরেছিলাম, জানতাম। আমি চাইনি। আর আমাকে কেউ কিছু বলেনওনি।’’ এর পরে কী হবে? তাঁর ভবিষ্যৎ কী? অশোকের মন্তব্য, ‘‘এটা আমার জানা নেই। এই নিয়ে কারও সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। কে কী ভাবছেন, আমার জানা নেই।’’ বিধানসভার মধ্যে গত পাঁচ বছর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পরে তাঁকে নিয়ে বিজেপির বিকল্প ভাবনা কী, সেই বিষয়ে আগাম কোনও বার্তা না-পেয়ে প্রবীণ বিধায়কের ‘আক্ষেপ’ আছে। তবে তিনি চেনা ছকের রাজনীতিক নন বলেই বাইরে মন্তব্য করছেন না। ব্রিগেড সমাবেশ শেষে মঞ্চ থেকে নামার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কথা বলেছিলেন অশোকের সঙ্গে। সেই কথোপকথনকে ‘সৌজন্যমূলক’ই বলছেন অশোক।
বিজেপির বিদায়ী পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে পরিস্থিতির ‘স্পর্শকাতরতা’ বুঝতে পারছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মনে করেন, ‘‘অশোকবাবুর জ্ঞান বা পাণ্ডিত্যের ধারে-কাছে কেউ নেই এখানে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই।’’ বিজেপির একটি সূত্রের খবর, নীতি আয়োগ বা সর্বভারতীয় স্তরে কোনও ‘সম্মানজনক’ ভূমিকায় অশোককে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। রাজ্যসভার সুযোগ ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছে।
বিজেপি শিবিরেরই একটি সূত্রের বক্তব্য, বালুরঘাটে দলের সাংগঠনিক কাজকর্মের রাশ যাঁদের হাতে, তাঁদের সঙ্গে অশোক খুব স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। ফলে, বালুরঘাটে ফের প্রার্থী হলে তাঁর পক্ষে যে সুখকর হবে না, সেই ইঙ্গিত দলের নেতৃত্বের কাছে দিয়ে রেখেছিলেন বিধায়ক। দলের একাংশের তরফে কলকাতার রাসবিহারীর মতো বাঙালি-প্রধান কেন্দ্রে তাঁর নাম প্রস্তাব করা
হয়েছিল। সেখানেও স্বপন দাশগুপ্তের নাম ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। বিজেপির এক নেতার বক্তব্য, ‘‘এর পরেও হয়তো উত্তর কলকাতার কোনও কেন্দ্রে অশোকবাবুর কথা বিবেচনা করা যায়। উনি তাতে উৎসাহী বলে মনে হয় না।’’
এই টানাপড়েনের মধ্যেই জোড়া লড়াইয়ের জন্য তৈরি হচ্ছেন শুভেন্দু। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হওয়ার পরে প্রথম মুখ খুলে তাঁর মত, যুদ্ধে নেমে যে কোনও আক্রমণের জন্যই তৈরি থাকতে হয়। দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের ফাঁকে বিদায়ী বিরোধী দলনেতা বলেছেন, ‘‘দল আমাকে যা দায়িত্ব দিয়েছে, সব শক্তি দিয়ে পালন করব। রাজ্যে প্রকৃত পরিবর্তন আনার জন্য সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র বলে আলাদা কিছু মনে করার কারণ নেই। সংসদীয় গণতন্ত্রে যে কোনও কেন্দ্র থেকে কেউ প্রার্থী হতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী গত বার নন্দীগ্রামে হেরে ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় ফিরেছিলেন। হতেই পারে ভবানীপুর তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। নন্দীগ্রামও আগে তৃণমূলের গড় ছিল। সেখানে কি বিজেপি জেতেনি?’’
বয়াল-১ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ও বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি পবিত্র করকে দলে যোগদান করিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরে পবিত্রকেই নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয়েছে। নন্দীগ্রামের বর্তমান বিধায়কের কথায়, ‘‘যিনি যোগ দিয়েছেন, তাঁর আশেপাশের লোকেরা আমাদের সঙ্গেই আছেন। ইভিএমে (বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র) দু’টো নাম পাশাপাশি থাকলে নন্দীগ্রামের মানুষ বিচার করবেন!’’