মমতার মুখে বিজেপির ‘টনসিল’
নিজস্ব সংবাদদাতা
বিজেপির প্রার্থী হোন— এই ভাষাতেই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুথের ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘‘কেন ছাপ্পা দেওয়াবে? আদালতে
আপত্তি জানাব।’’
গত কয়েক মাস ধরে এসআইআরেই নির্বাচনী তরজাকে বেঁধে রাখতে চেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সমালোচনার সঙ্গেই মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর-পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নামানোর চেষ্টা করেছেন গোটা দলকে। কমিশন ও বিজেপিকে এক বন্ধনীতে নিয়ে আসার সেই চেষ্টায় এ বার দফায় দফায় আধিকারিক বদলের সিদ্ধান্তকেও জুড়ে দিলেন তাঁরা। দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে মঙ্গলবার মমতা বলেছেন, ‘‘মেঘের আড়াল থেকে কেন খেলছেন? সরাসরি প্রচারে নেমে পড়ুন। মঞ্চ বেঁধে মিটিং করুন।’’
ভোট ঘোষণার পরেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ দুই পুলিশ প্রধানের বদলি ঘিরে মমতার রোষের মুখে পড়েছিল কমিশন। এই বদলি নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করে এ দিন মমতা বলেন, ‘‘বেছে বেছে (অফিসার) নিয়েছেন। কারা টাকা বিলি করবেন, অস্ত্র সরবরাহ করতে পারবেন, এমন কাউকে কাউকে।’’ কমিশনের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, ‘‘দুরন্ত খেলছেন! বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই মুখ্যসচিব বদল করে দিলেন! আপনাদের অনেক চক্রান্ত আছে।’’ এর পরই এই বদলির সঙ্গে বিজেপিকে জুড়ে তিনি বলেন, ‘‘পার্টি অফিসে বসে বসে বদল করা হচ্ছে। একটা দুর্ঘটনা ঘটলে, আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হলে কে সামলাবে? সব দায়িত্ব বিজেপি আর কমিশনকে নিতে হবে। কিছু ঘটলে ওদের টুঁটি চেপে ধরতে হবে!’’ কমিশন সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘‘সুপার ইমার্জেন্সি চালু করে চার মাস রাজ্যের সরকারের দখল নিয়েছেন।’’ রাজ্যের নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের দায়িত্বপ্রাপ্ত, প্রাক্তন আমলা সুব্রত গুপ্তের কাজে ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘বিজেপির কথায় নাচছেন! সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণের কথা মনে আছে। তাপসী মালিকের মৃত্যু।’’
এ দিনও বাইরে লোক এনে রাজ্যের ভোটে কাজে লাগানোর অভিযোগ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘আরএসএসের কিছু লোক এসেছে হরিয়ানা থেকে। এক জনের নাম ‘টনসিল’। ডাক নাম। তিনি ঠিক করছেন, কে মুখ্যসচিব হবে! এত নির্লজ্জ।’’ মমতার আশঙ্কা, ‘‘দাঙ্গা লাগিয়ে দেওয়াই ওদের (বিজেপি) পরিকল্পনা।’’ এসআইআর তরজায় বিজেপি বারবার অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার কথা বলছে। জবাবে মমতা এ দিনও রাজ্যের বিভিন্ন অংশের মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘‘সবাইকে বরবাদ করে আপনারা ঠিক থাকবেন তো?’’ তাঁর দাবি, ‘‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, তৃণমূলই জিতবে। আমরা ৩৬৫ দিন মানুষের পাশে থাকি।’’ তার পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘অনুপ্রবেশকারী বিহারে ছিল না, এখানেও নেই। ওরাই (বিজেপি) এখানে অনুপ্রবেশকারী।’’
এ বারের নির্বাচনকে বাংলার অস্তিত্ব ও অস্মিতা রক্ষার লড়াই বলে উল্লেখ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সমাজমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, ‘বঙ্গবাসীর একটি ভোট শুধু একটি সিদ্ধান্ত নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি রক্ষার লড়াইয়ে গণতান্ত্রিক জবাব।’