রাজ্যসভা ভোটে টাকার
খেলা, দাবি বিরোধীদের
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি, ১৭ মার্চ: রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা করে দাবি করেছিলেন, তিনি হিংসা করে বা লোভ দেখিয়ে ভোট হতে দেবেন না। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে টাকা ছড়িয়ে আসন জেতার খেলায় নেমেছে বলে অভিযোগ তুলল বিরোধী শিবির।
ওড়িশা, বিহার থেকে হরিয়ানা, তিন রাজ্যের রাজ্যসভা নির্বাচনেই বিজেপি টাকার বিনিময়ে বিরোধী বিধায়কদের ভোট কেনার চেষ্টা করেছে বলে বিরোধীদের দাবি। ওড়িশা, বিহারে বিজেপি সফল হলেও হরিয়ানায় শেষ পর্যন্ত সাফল্য মেলেনি। হরিয়ানার কংগ্রেস নেতা দীপেন্দর সিংহ হুডা অভিযোগ তুলেছেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণতন্ত্রকে ‘ধনতন্ত্রে’ পরিণত করেছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, বিজেপি যদি দু’একটা রাজ্যসভার আসন জেতার জন্য কংগ্রেস, আরজেডি, বিজেডি বিধায়কদের কিনে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, তা হলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে কী করবে?
রাজ্যসভার ৩৭টি আসনে নির্বাচনের মধ্যে সোমবার শুধুমাত্র বিহার, ওড়িশা, হরিয়ানার ১১টি আসনে ভোটাভুটি হয়েছিল। কারণ সেখানে আসনের তুলনায় বেশি প্রার্থী ছিল। অন্য রাজ্যে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছিলেন। ভোটাভুটির পরে দেখা গিয়েছে, বিজেপি তথা এনডিএ ওই ১১টি-র মধ্যে ৯টি আসন জিতেছে। বিহারে কংগ্রেসের তিন বিধায়ক ও আরজেডি-র এক বিধায়ক ভোট দিতে না যাওয়ায় এনডিএ একটি আসন পেয়ে গিয়েছে। ওড়িশায় তিন কংগ্রেস বিধায়ক কংগ্রেস-বিজেডি জোটের প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ওড়িশার প্রথম মুসলিম মহিলা বিধায়ক, কংগ্রেসের সোফিয়া ফিরদৌসও রয়েছেন। কংগ্রেস তাঁদের সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওড়িশায় বিজু জনতা দলেরও ছয় জন বিধায়ক বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।
তাঁদের শো-কজ় করেছে নবীন পট্টনায়েকের দল।
হরিয়ানায় তিনটি আসনের মধ্যে একটি আসনে বিজেপি বনাম কংগ্রেসের লড়াইয়ে কংগ্রেসের পাঁচ জন বিধায়ক বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। চার জনের ভোট বাতিল হয়েছে। কংগ্রেস এ নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাতে গিয়েছিল। ভোট প্রক্রিয়া কিছু ক্ষণ স্থগিত ছিল। শেষে কান ঘেঁষে কংগ্রেস জিতে যায়। কংগ্রেস নেতা দীপেন্দর সিংহ হুডা বলেন, ‘‘আমরা দলবিরোধী বিধায়কদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করব। কিন্তু বিজেপি একটি মাত্র রাজ্যসভা আসনের জন্য গণতন্ত্রের কোনও মর্যাদা রাখল না। বিজেপি মনে করে তার কাছে ক্ষমতা রয়েছে, টাকা রয়েছে, ইডি-সিবিআই রয়েছে। কিন্তু আমরাও গণতন্ত্র বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাব।’’