তালিবানের পাশে কৌশলী ভারত
নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি, ১৭ মার্চ: কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের হামলার প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করল না ভারত। নয়াদিল্লির বার্তা, এই আক্রমণ ‘বর্বরোচিত’ এবং ‘কাপুরুষোচিত’। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে পাকিস্তান যা করেছে, তা এক নৃশংস গণহত্যা। এখন সেই গণহত্যাকে ‘সামরিক অভিযান’ বলে চালানোর চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু যে হামলায় এত জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়, সেটিকে কোনও যুক্তিতেই ‘সামরিক নিশানা’ বলে দেখানো যায় না। গণহত্যাকে সামরিক অভিযান হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হামলাটি পবিত্র রমজান মাসে চালানো হয়েছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এমন কোনও ধর্ম বা আইন নেই যা একটি হাসপাতাল ও রোগীদের উপরে ইচ্ছাকৃত
ভাবে হামলাকে সমর্থন করতে পারে।”
ভারত এই হামলাকে পাকিস্তানের বেপরোয়া আচরণের ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেছে। মৃতদের পরিবারের উদ্দেশে শোকপ্রকাশ করে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে। জানানো হয়েছে, আফগান জনগণের পাশে রয়েছে ভারত।
প্রসঙ্গত, মাস ছয়েক আগে নয়াদিল্লি যখন তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির আতিথ্যের আয়োজন করছে, তখনই আফগান-পাক সীমান্তের আকাশ অশান্ত। পাকিস্তান হামলা শুরু করেছিল আফগানিস্তানে। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, সে দিন থেকে আজ পর্যন্ত তাতে কৌশলগত লাভ হয়েছে ভারতের। নয়াদিল্লির মাটিতে আফগান দূতাবাসে বসে তালিবান বিদেশমন্ত্রী সে দিন হুঙ্কার ছেড়েছিলেন ইসলামাবাদের উদ্দেশে। কূটনৈতিক শিবিরের একটি বড় অংশ মনে করছে, ভারত নিজের স্বার্থেই তালিবানের জন্য মঞ্চ তৈরি করেছে। তালিবান এবং তাদের প্রাক্তন অভিভাবক পাকিস্তানের সংঘাতের ফলে ভারতের পাক-বিরোধী প্রচারে
বাড়তি অক্সিজেন পাওয়ার মধ্যে লাভ
দেখছে দিল্লি। এটাই স্বাভাবিক যে ভারতীয় গোয়েন্দারা তালিবানকে
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন বা করবেন। এটাও প্রমাণিত যে, ভারতীয় বিনিয়োগ এবং অনুদানের দরজা খুলে দিয়েছে তালিবান।
তালিবান সরকার ও পাকিস্তানের মধ্যে এই লড়াইয়ে ভারতের ভূমিকা পৌঁছেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার পরিষদেও। কাবুলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রসঙ্গে ভারতকে টেনে এনে সম্প্রতি সরব হয়েছিল ইসলামাবাদ। অভিযোগ, ভারত জড়িত রয়েছে আফগানিস্তানের পাক আক্রমণে। এক সপ্তাহ আগেই সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিয়েছে সেবা তীর্থ (সাউথ ব্লক)। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়ালের কথায়, “এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। নিজেদের অপকর্মের জন্য ভারতকে দোষারোপ করে যাওয়া পাকিস্তানের স্বভাব। কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে, সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্য। যতই গল্প বলা হোক না কেন, এই বাস্তবতা বদলানো যাবে না। পাকিস্তান এই প্রচার করে কাউকে বোকা বানাতে পারবে না।’’