লারিজানিও নিহত, দাবি ইজ়রায়েলের
নিজস্ব প্রতিবেদন
সোমবার থেকে তেহরান এবং তার পাশ্ববর্তী এলাকায় লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে চলেছে ইজ়রায়েল। মঙ্গলবার তাদের দাবি, ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজ়ানি নিহত হয়েছেন। এই দাবির কিছুক্ষণের মধ্যেই লারিজ়ানির নামে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম একটি বিবৃতি জারি করে। আর ঠিক একই সময়েই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে অস্বস্তিতে ফেলে আমেরিকার ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজ়ম সেন্টারের ডিরেক্টর জোসেফ কেন্ট ইস্তফা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে মন্তব্য করেছেন, ইরান কোনও ভাবেই আমেরিকার আশঙ্কার কারণ ছিল না। ইজ়রায়েলের চাপে যুদ্ধের রাস্তায় গিয়েছে আমেরিকা।
ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যুদ্ধ ১৮ দিন পার করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, ইরানের থেকে এই মাত্রায় প্রত্যাঘাতের আশঙ্কা করেননি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। এই নিয়ে ঘরে-বাইরে চাপে রয়েছেন তিনি। হরমুজ় প্রণালীতে যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর জন্য বিভিন্ন দেশের কাছে দরবার করলেও সাড়া মেলেনি। এই অবস্থায় সন্ত্রাসবাদ বিরোধী শাখার শীর্ষ আধিকারিক পদত্যাগ করলেন। সরাসরি ট্রাম্পকে দেওয়া ইস্তফাপত্র সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘অনেক চিন্তাভাবনার পরে আমি ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজ়ম সেন্টারের ডিরেক্টরের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার বিবেক কোনও ভাবেই ইরানের যুদ্ধের পক্ষে সায় দিচ্ছে না। ইরান আমাদের দেশের পক্ষে কোনও আশঙ্কার কারণ ছিল না। এখন এটা স্পষ্ট যে, ইজ়রায়েল এবং আমাদের দেশে তাদের শক্তিশালী লবির চাপে আমরা এই যুদ্ধ শুরু করেছি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এবং ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তুলসি গাবার্ডের অধীনে কাজ করা সম্মানজনক অভিজ্ঞতা ছিল। ঈশ্বর আমেরিকার মঙ্গল করুন’। যুদ্ধ শুরুর পরে এই মাপের পদাধিকারির ইস্তফা এই প্রথম। পদত্যাগপত্রে কেন্ট দাবি করেছেন, যুদ্ধে জড়িয়ে আমেরিকার সম্পদ কী ভাবে নষ্ট হচ্ছে তা ট্রাম্প প্রথমে বুঝেছিলেন। কিন্তু তিনিই এখন অন্য রকম পদক্ষেপ করছেন।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছিল। এর পরে দিন দুই আগে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের শীর্ষ ১০ পদাধিকারির মাথার দাম ঘোষণা করে আমেরিকা। সেই তালিকায় লারিজানির নাম ছিল। শেষ বার তাঁকে দেখা গিয়েছিল গত শুক্রবার। এ দিন ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রাইল কাৎজ় দাবি করেন, তাঁদের সারারাতব্যাপী আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্য ছিলেন লারিজ়ানি। তিনি নিহত গিয়েছেন। তেহরান অবশ্য এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেনি। শুধু লারিজ়ানির নামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে সরকারি সংবাদমাধ্যম। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ইরানের মানুষের এপস্টিন দ্বীপের ধ্বংসাবশেষে ঐতিহাসিক জয় এখন সময়ের অপেক্ষা’।
একটি অংশ আবার দাবি করেছে, ইরানের এখনকার সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের চিকিৎসা চলছে মস্কোয়। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন। তার পরেই রুশ সেনার বিমানে আহত মোজতবাকে মস্কোয় উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।