২৩ জুন: ঝড়বৃষ্টির জন্য বিশ্বকাপের খেলা বন্ধ রইল দু’ঘণ্টারও বেশি। ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ঝড় তুললেন আরও একজন। তিনি ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড লিয়োনেল মেসি করেছেন বটে, কিন্তু এমবাপেও রীতিমতো ঝড়ের গতিতে সেই সংখ্যাকে তাড়া করে যাচ্ছেন। ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশঁ বলেই দিচ্ছেন, মেসির রেকর্ড ভেঙে দিতে পারেন এমবাপে।
ইরাকের বিরুদ্ধে ৩-০ জিতে বিশ্বকাপের নক-আউটে খেলা নিশ্চিত করার পরে শোকের আবহ ফরাসি শিবিরে! মায়ের প্রয়াণের খবর পেয়ে ফ্রান্স ফিরে যাচ্ছেন কোচ দিদিয়ে দেশঁ। ফরাসি ফুটবল সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার নরওয়ের বিরুদ্ধে কিলিয়ান এমবাপেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তিনি থাকতে পারবেন না।
সোমবার ফিলাডেলফিয়ায় ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার ভয়ে ম্যাচ বন্ধ থাকে প্রায় ১৩১ মিনিট। খেলা শেষ হয় ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ছ’টায়। ইরাককে তিন গোলে হারানোর ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে দু’টি গোলই এমবাপের। সেই সঙ্গেই বিশ্বকাপে ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের সঙ্গে তিনি হয়ে গেলেন বিশ্বকাপের যুগ্ম দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। সামনে শুধু মেসি, যাঁর গোলসংখ্যা ১৮।
ফ্রান্সের হয়ে নিজের শততম ম্যাচে নেমে দলকে জেতানোর পর মেসির দরাজ প্রশংসাও করেছেন এমবাপে। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ভাবছিলাম, মেসির কাছে পৌঁছতে পারব কি না। তখন ফোনের দিকে চোখ গেল। দেখলাম, মেসি আবার গোল করেছে। আমার মনে হচ্ছে, ও এখন কোনও প্রতিপক্ষ বা কোনও ফুটবলারের বিরুদ্ধে লড়ছে না। এখন ও সময়ের সঙ্গে খেলছে।’’
বয়স যে মেসির ক্ষেত্রে কেবলই একটা সংখ্যা তাও বিশ্বাস করেন এমবাপে। তিনি বলেন, ‘‘যখনই সকলে ভাবে, মেসি ফুটবল জীবনের শেষ প্রান্তে চলে গিয়েছে, তখনই ও নতুন অধ্যায় শুরু করে। রেকর্ড, চাপ, বয়স, ইতিহাস— এ সব কিছুই ওর উপর প্রভাব ফেলে না। মেসিকে তাড়া করা অসম্ভব। আপনি শুধু আশা করতে পারেন, মেসির কাছে পৌঁছনোর। কিন্তু অতটা সময় কি ফুটবল
আপনাকে দেবে?’’
এমবাপে প্রশংসা করলেও তাঁর দলের কোচ কিন্তু সতর্ক করেছেন মেসিকে। দিদিয়ে দেশঁ মনে করেন, কিলিয়ান এমবাপে রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারেন মেসির। ফরাসি কোচ বলেছেন, ‘‘রেকর্ড তো ভাঙার জন্যই গড়া হয়। এমবাপে দেশের হয়ে সবে ১০০ ম্যাচ খেলল। তাতেই এত গোল করে ফেলেছে। ও আরও গোল করবে। নিজেরই একের পর এক রেকর্ড ভাঙছে এমবাপে।
বাকিদেরও ভেঙে ফেলবে।’’
গোল যে তিনি আরও করবেন, ইরাকের বিরুদ্ধে ম্যাচেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এমবাপের খেলায়। ১৪ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। তাঁর শটের কোনও জবাব গোলরক্ষকের কাছে ছিল না। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইরাক যে প্রতিআক্রমণের উপরেই ভরসা করবে, তা আগে থেকেই বোঝা গিয়েছিল। ম্যাচেও তা দেখা গেল। কিন্তু প্রতিআক্রমণ করে ফ্রান্সের রক্ষণ তারা ভাঙতে পারল না। দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু হওয়ার পর আবার গোল করেন এমবাপে। ফ্রান্সের হয়ে ৬৬ মিনিটে দলের তৃতীয় গোল করেন উসমান দেম্বেলে। এমবাপে, দেম্বেলে এবং মাইকেল ওলিসে— এই ত্রয়ীর আক্রমণের ত্রিফলায় যে বিশ্বকাপে বহু দলের রক্ষণ ফালাফালা হয়ে যেতে পারে, তার আঁচ মিলেছে ফ্রান্সের
দু’টি ম্যাচেই।