সব্যসাচীর ‘ঘনিষ্ঠ’ নেত্রীর বাড়িতে মিলল বিপুল সোনা
নিজস্ব প্রতিবেদন
তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে নদিয়া জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার বাড়ি ও বাপের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ। দ্বিতীয় দফায় ছ’দিনের পুলিশি হেফাজত শেষে, সোমবার রাতে পুলিশ সব্যসাচীকে নিয়ে তেহট্ট ও করিমপুরে দুই বাড়িতে যায়। যদিও টিনার দাবি, ওই গয়নার বেশির ভাগটাই পরিবার সূত্রে পাওয়া এবং তা তাঁর আয়কর রিটার্নে দেখানোও রয়েছে। তবে মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপরে জবাবি বক্তৃতায় নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘বিধাননগরের আর এক বড় নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পরে তাঁরও এক জনের বান্ধবীর কথা জানা যাচ্ছে। প্রচুর সোনা উদ্ধারের খবর আসছে। সব সোনা কেনা হয়েছে ২০২১ সালের পরে। এখনও হিমশৈলের চূড়া বেরোচ্ছে।’’
পুলিশ সূত্রের দাবি, ধৃতকে এবং একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে টিনার কথা জানা যায়। এর পরেই তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে দু’টি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিতে তিন কেজিরও বেশি সোনার গয়না পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি। এর সঙ্গে সব্যসাচীর যোগসূত্র রয়েছে বলে অনুমান। যদিও এ দিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়ে তিনি দাবি করেন, ওই সোনা তাঁর নয়, তাঁর যোগসূত্রও নেই। প্রাথমিক শিক্ষিকা টিনার কাছে কী করে ওই বিপুল পরিমাণ সোনা এল, তার সঙ্গে তোলাবাজির টাকার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তদন্তকারীরা দেখছেন।
সোমবার রাতে সব্যসাচীকে সঙ্গে নিয়ে নদিয়ার তেহট্ট থানার নাজিরপুর ও করিমপুরের কিশোরপুরে যথাক্রমে টিনার বাড়ি ও বাপের বাড়িতে অভিযান চালায় পূর্ব বিধাননগর থানার পুলিশের একটি দল। গয়না ছাড়াও, বেশ কিছু বহুমূল্য ঘড়ি বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর। টিনা এক সময় তেহট্টের তৃণমূল বিধায়ক তাপস সাহার (বর্তমানে প্রয়াত) সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন। তখন তিনি তাপসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগ উঠেছিল।
পুলিশের তল্লাশির সময়ে টিনা বা তাঁর স্বামী নিলয় সাহা বাড়িতে ছিলেন না। পরে, টিনার শ্বাশুড়ি অর্চনা সাহা বলেন, “ছেলে-বৌমা কলকাতায় গিয়েছে। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে সোনার গয়না নিয়ে গিয়েছে।” সব্যসাচী আগে কখনও তাঁদের বাড়িতে আসেননি বলেও তিনি জানান। নাজিরপুর বাজারে টিনার বাবা কাঞ্চন ভৌমিকের পোশাকের দোকান, জমি কেনাবেচার কাজও করেন। তাঁর দাবি, “মেয়ে ও স্ত্রীর যা গয়না ছিল, পুলিশ সব নিয়ে গিয়েছে।” সব্যসাচীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নেই দাবি করে ফোনে টিনা বলেন, “১৫ বছর আগে বিয়ের সময়ে স্ত্রী-ধন ও উপহার বাবদ প্রচুর গয়না পেয়েছিলাম। প্রতি বছর বিবাহবার্ষিকীতেও পেয়েছি। সবেরই বিল রয়েছে।” সোমবার সন্ধ্যায় বিধাননগর থানার পুলিশ তাঁকে সমন পাঠায়। রাতেই তাঁরা কলকাতায় চলে যান। তার পরেই তল্লাশি হয়।
সব্যসাচীর একটি ব্যাঙ্কের দু’টি লকার থেকে এ দিন তিন কেজি সোনার গয়না, দেড় কেজি রুপোর মুদ্রা ও বিস্কুট পাওয়া যায়। বিধাননগর আদালতে বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, ধৃতকে জেরা করে আনুমানিক ছয় কেজিরও বেশি সোনা-রুপোর গয়না ও পাঁচ লাখ টাকা নগদ-সহ সব মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। তাই এই মামলায় দুর্নীতি দমন আইনের ধারাও যুক্ত করা প্রয়োজন। আদালত তা মঞ্জুর করে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার এক অফিসারকে তদন্ত-ভার দেয়। বারাসতের বিশেষ আদালতে নথি স্থানান্তরিত করে সেই মামলা হবে। সব্যসাচী এখন জেল হেফাজতে।